মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গ্রামীণ পাকা সড়কগুলোর বর্তমানে একেবারেই বেহাল অবস্থা। এলজিইডির আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কগুলোর কার্পেটিং ও ইটের সোলিং উঠে গিয়ে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার কোনো কোনো অংশ এতই খারাপ যে, সেটি পাকা না কাঁচা, তা বোঝাই মুশকিল। রাস্তা তো বটেই, অনেক ব্রিজেরও খারাপ অবস্থা। অনেক ব্রিজের মাঝখানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, রেলিং ভেঙে গেছে। আবার কোনোটার গোড়ায় মাটি নেই। অধিকাংশ সড়ক ও সেতু যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের ভাঙা অংশে গাড়ি উলটে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় সবগুলো সড়কেরই বেহাল দশা। এর মধ্যে বায়রা-জামালপুর সড়ক, তালেবপুরের রাজেন্দ্রপুর- বাঘারচর সড়ক, সিংগাইর-সায়েস্তা-মানিকনগর সড়ক, বাস্তা-জামির্ত্তা সড়ক, চান্দহর-সিরাজপুর সড়ক, ভূমদক্ষিণ-কামুড়া সড়ক, জয়মন্টপ-মধুরচর সড়ক, জয়মন্টপ-দশয়ানি সড়ক, গোলাইডাঙ্গা-জামসা সড়ক ও সায়েস্তা-শোল্লা ঘাট সড়কসহ আরো কয়েকটি সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ছোটো-বড়ো অসংখ্য খানাখন্দ। ভাঙা স্থানে বৃষ্টির পানি জমে সড়কগুলো যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ঢাকায় কিংবা জেলা-উপজেলা সদরে যাতায়াতে লোকজনকে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে এসব সড়ক নির্মাণের সময় যদি অনিয়ম না হতো এবং সড়কে অতিরিক্ত ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল বন্ধ করা যেত তাহলে সড়কগুলো এত তাড়াতাড়ি ভেঙে যেত না।
অটোরিকশা চালক আহাদ নূর বলেন, সড়কে শতাধিক বড়ো বড়ো খানাখন্দ থাকার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। অনেক সময় গর্তে পড়ে অটোরিকশা উলটে দুর্ঘটনা ঘটছে, আহত হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা।
ট্রাক চালক মুজিব রহমান জানান, বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে থাকে। এতে অনেক সময় গাড়ি উলটে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও রাস্তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।
