তিতাসের মৃত্যুতে তদন্ত প্রতিবেদন

দায় নেই যুগ্মসচিব ও মাদারীপুর ডিসির

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৪

দেরিতে ফেরি ছাড়ায় স্কুল শিক্ষার্থী তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় যুগ্মসচিব আব্দুস সবুর মণ্ডল ও মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহেদুল ইসলামের কোনো দায় খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে অ্যাম্বুলেন্সে তিতাস নামে একজন মুমূর্ষু রোগী রয়েছেন সেটা তাদের কেউই জানতেন না। ফলে তাদের দায়ী করার মতো যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল আহসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। তবে দায়িত্ব ও কর্তব্যে অদক্ষতা, অযোগ্যতা ও অবহেলার দায়ে ঘাট ম্যানেজার মো. সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী মো. খোকন মিয়া এবং উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলমকে দায়ী করেছে কমিটি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সাত দফা সুপারিশ করেছে কমিটি।

সুপারিশে বলা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স/গাড়ি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে ফেরিঘাট পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী ভিআইপি সুবিধা চেয়ে কেউ ফেরি পারাপার হতে চাইলে তাকে অবশ্যই তার সরকারি ভ্রমণ বিবরণী আগেই ফেরি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে আগে যোগাযোগ সাপেক্ষে ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়মের শিথিল করা যেতে পারে। আগামী ১৩ অক্টোবর এ প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।

গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ফেরি ছাড়ে। আর ফেরিঘাটে রাখার জন্য মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়। পরে চিকিত্সাসেবা না পেয়ে ঘাটে আটকেপড়া অ্যাম্বুলেন্সে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট করা হয়। পাশাপাশি সরকার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। পরে প্রতিবেদন সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

তিনি বলেন, যুগ্মসচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের বিষয়ে তদন্ত কমিটি বলেছে, উনি ফেরিঘাটে একজন মুমূর্ষু রোগী অ্যাম্বুলেন্সে আছে, সেটা জানতেন না। তার অজ্ঞতাবশত কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে তার জন্য তাকে দায়ী করার মতো কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। এছাড়াও মাদারীপুরের ডিসি ফোন করে যে ফেরি থামাতে বলেছিলেন, সেই ফেরিঘাটে একজন মুমূর্ষু রোগী অ্যাম্বুলেন্সে অপেক্ষা করছে, সেটাও তাকে অবহিত করা হয়নি। ফলে উনি বিষয়টি জানতেনও না। ফলে ডিসিকেও দোষারোপ করার মতো কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ডিএজি বলেন, ঐ যুগ্মসচিব সরকারি সফরে ছিলেন। তিনি যে রাস্তা দিয়ে ঢাকায় আসতে চেয়েছিলেন, সে রুটে ধর্মঘট চলছিল। এ কারণে কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট দিয়ে তিনি ঢাকায় আসতে চেয়েছিলেন। আর যেহেতু তিনি সরকারি সফরে ছিলেন, তাই বিষয়টি মাদারীপুরের ডিসিকে জানান। অগ্রধিকার ভিত্তিতে গাড়ি পারাপারের ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির একটি পরিপত্রও আছে, সেই পরিপত্রের ভিত্তিতে ডিসি ফেরিঘাটের ম্যানেজারকে অনুরোধ করেন যেন এই সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়। কিন্তু তারা কেউই জানতেন না যে ফেরিঘাটে একজন মুমূর্ষু রোগী ছিল। এ কারণে ঐ দুজনকে দোষারোপ করতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

সুপারিশসমূহ :

ঘাট থেকে ফেরি ছাড়া এবং পৌঁছানোর সময় মাস্টারকে অবশ্যই স্থায়ী লগ বুক-রেজিস্টারে সময় লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। ফেরিঘাটে ভিড়িয়ে ফেরির র্যাম্প উঠিয়ে কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য কোনোক্রমে অপেক্ষা করা যাবে না। প্রত্যেক ঘাটে ও ফেরিতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে গাড়ি ও ফেরি পারাপারের বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফেরিঘাট ও ফেরিতে কর্মরত সকলের নাম ট্যাগসহ নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করতে হবে। ফেরিঘাট ও ফেরিতে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।