জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও টেন্ডার ছিনতাইকারীদের শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
টানা তিন দিন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের পর গতকাল দুপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। আন্দোলনকারী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা চলে। এসময় উপাচার্য বলেন, ‘হলের স্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ। নির্ধারিত স্থান থেকে একটু এপাশ ওপাশ করা যেতে পারে। আর প্রকল্পে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে আমি তৃতীয় কোনো পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি। সম্পূর্ণ বিষয়ের তদন্ত হোক।’
বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগে যেহেতু উপাচার্য নিজেই অভিযুক্ত—তাই তাকে নির্বাহী প্রধান করে আমরা আলোচনায় বসতে পারি না। রাষ্ট্রপক্ষের কোনো প্রতিনিধি আলোচনায় নির্বাহী প্রধান হলে আমরা আলোচনায় বসব। সেটা হতে পারে আচার্যের কোনো প্রতিনিধি, ইউজিসির সদস্য কিংবা মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তি।
এসময় ছাত্র ফ্রন্টের জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদার বলেন, ‘আলোচনার ফলাফল কেবল প্রশাসনের আন্তরিকতার ওপরই নির্ভর করবে।’ আমাদের আন্দোলন চলবে। আগামী রবিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।
ছাত্রলীগের বিবৃতি
চলমান মেগা প্রকল্পে কেন্দ্রীয় ও শাখা ছাত্রলীগকে জড়িয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছে শাখা ছাত্রলীগ। গতকাল উপ-দপ্তর সম্পাদক এম মাইনুল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শাখা ছাত্রলীগ এ দাবি করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া মনগড়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ অভিযোগ দুরভিসন্ধিমূলক।
