g দিল্লি প্রতিনিধি
গত ২৩ নভেম্বর করাচিতে চীনের কনস্যুলেটে বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা সারা দুনিয়ার মানুষের নজরে এসেছে। যদিও বেলুচিস্তান লিবোরেশন আর্মি বেলুচিস্তানের খনিজ সম্পদের ব্যাপারে চীনের কর্তৃপক্ষকে আগেই সতর্ক করেছে। কারণ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানকার বিভিন্ন জায়গাকে টার্গেট করছে। ১৯৪৭ থেকে ’৭১ সাল পর্যন্ত তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ন্যায় দুর্ভোগে রয়েছে বেলুচিস্তানের মানুষ। চীনের কনস্যুলেটে হামলা দুঃখজনক কিন্তু বেলুচিস্তানের মানুষের দুর্ভোগের অভিযোগকে সবসময় উপেক্ষা করা যায় না। এ থেকেই প্রশ্ন উঠেছে স্বাধীনতার পথে কি এগোচ্ছে বেলুচিস্তান?
গত ৭০ বছর ধরে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায় বেলুচিস্তান অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বেলুচিস্তানের পার্লামেন্ট পাকিস্তানের সঙ্গে একত্রিতকরণের বিরোধিতা করে। কিন্তু ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রদেশটি জবরদখল করে। পাকিস্তানের সমগ্র ভূখণ্ডের ৪৬ ভাগ বেলুচিস্তানে। সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও এর জনসংখ্যা পাকিস্তানে সবচেয়ে কম। পাকিস্তানের ৪০ ভাগ মানুষ পশতুন।
সরকারি বিধি ব্যবস্থায় বৈষম্য এবং দারিদ্র্যের কারণে ক্ষুব্ধ বেলুচিস্তানের মানুষ। বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বেলুচিস্তানের মানুষ খুবই দরিদ্র। মাত্র ২৫ ভাগ মানুষ সেখানে শিক্ষিত। অথচ পাকিস্তানে শিক্ষার হার শতকরা ৪৭ ভাগ। বেলুচিস্তানের বেকারত্বের হার ৩০ ভাগ। পাকিস্তানের এক তৃতীয়াংশ গ্যাসের মজুদ বেলুচিস্তানে কিন্তু অল্প কয়েকটি শহরে বিদ্যুত্ সরবরাহ আছে।
বেলুচদের অভিযোগ, বেশিরভাগ পরমাণু পরীক্ষা বেলুচিস্তানে চালানো হয়। তাদের খনিজ সম্পদ ব্যবহূত হচ্ছে পুরো পাকিস্তানের অগ্রগতিতে। এ বৈষম্যের সর্বশেষ নমুনা গোয়াদার বন্দর। প্রদেশটির হাজার হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে অথচ বালুচদের সেখানে সম্পৃক্ত করা হয়নি। প্রথম থেকেই বৈষম্য চলছে এই প্রদেশটির ব্যাপারে।
শের মোহাম্মদ মারির নেতৃত্বে ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত আন্দোলন করে বেলুচিস্তানের কয়েকটি উপজাতি। ১৯৬৭ সাল থেকে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে বালুচ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন। সম্প্রতি বেলুচদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানকার মাদ্রাসাগুলোতে ঢুকে পড়ছে তালেবান। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেলুচিস্তানের ৪০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছে এবং ১০ হাজার মানুষ খুন হয়েছে।
