চট্টগ্রামের কর্নেলহাট সিডিএ (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) আবাসিক এলাকার কালিছরার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় বাড়ি নির্মাণ করতে পারছেন না প্লট মালিকরা। উলটো বিষয়টিকে ইস্যু করে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা প্লট মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা থানা ও পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়ে প্লট মালিকদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস ইত্তেফাককে বলেন, কালিছরার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ঠিক রেখেই সিডিএ আবাসিক এলাকার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি বরাদ্দকৃত জায়গায় ছরার গতিপথ পালটানোর কারণে ভবন নির্মাণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
চট্টগ্রাম নগরের উত্তর পাহাড়তলী ও কাট্টলী এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে কালিছরা। গত বুধবার সরেজমিনে সিডিএ আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সিডিএর লে-আউট অনুসারে ছরাটি এলাকার জামে মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কথা থাকলেও তা ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে দক্ষিণ পাশ সংলগ্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর উত্তরাংশটি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। দক্ষিণাংশে সিডিএর লে-আউটে থাকা তিনটি প্লটের কিছু অংশে ছরার পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। এরমধ্যে দুইটি প্লটের মালিক সৈয়দ আবদুল আলিম তুহিন ও নজিবুল্লাহ বাহার।
জানতে চাইলে সৈয়দ আবদুল আলিম তুহিন জানান, তার নামে বরাদ্দকৃত প্লট নম্বর এ-২৬ ও পাশের এ-৫৯ এবং তত্সংলগ্ন চলাচলের রাস্তা সিডিএর প্ল্যান অনুযায়ী করা হয়েছে; কিন্তু তিনি বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে স্থানীয় কয়েক জন ছরা দখলের অভিযোগ তুলে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে না চাইলে তারা থানা ও পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দেয়; কিন্তু থানা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্তে সিডিএর লে-আউট অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের প্রমাণ পায়। এরপরও তারা হয়রানি করছে। এ বিষয়ে সিডিএ ও সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরেকটি প্লটের মালিক নজিবুল্লাহ বাহার অভিযোগ করেন, ছরার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় তার প্লটের অর্ধেক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় ছরাকে আগের জায়গায় না নিলে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে না।
সিডিএ সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি এইচ এম আবুল খায়ের এ বিষয়ে বলেন, দখলদাররা ছরাটির একাংশ দখল করায় ছরাটি বর্তমানে উত্তর দিকে সরে গেছে। সেটা ঠিক করা সিডিএ অথবা সিটি করপোরেশনের কাজ। তাদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর ড. নেছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু বলেন, ছড়া পুনঃখননের জন্য একাধিকবার প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সেটা হয়ে উঠেনি। বর্তমানে সিডিএর জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় ছরাটি খনন হতে পারে। ছরাটি ঠিক করে নিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম বলেন, ছরাটির উত্তর পাশে বস্তা ও মাটি ফেলে ভরাট করে কিছু লোক দখলে নিয়েছে। তাই ছরাটি দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যারা জবরদখল করেছে তাদের নোটিশ জারি করেছি। লে-আউট অনুসারে উত্তর পাশ দিয়েই ছরাটি খনন করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করা হবে।
