হাউজ অব লর্ডসেও চুক্তিহীন ব্রেক্সিটবিরোধী বিল অনুমোদন

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:২৪

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে হাউজ অব কমন্সে পাস হওয়া বিলটিতে অনুমোদন দিয়েছে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডস। গতকাল বিলটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার বিলটিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্বাক্ষর করলে প্রধানমন্ত্রী চুক্তিহীন ব্রেক্সিট করতে পারবেন না। এদিকে বিরোধী দলগুলো বলেছে, সোমবার আগাম নির্বাচনের বিপক্ষে ভোট দেবেন তারা। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, বিরোধী দলগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক ভুল করছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের

হাউজ অব লর্ডসেও বিলের অনুমোদন

গতকাল আনুষ্ঠানিক ভোট ছাড়াই হাউজ অব লর্ডসে প্রধানমন্ত্রী বরিসের বিরোধী বিলটি অনুমোদিত হয়। ধারণা করা হয়েছিল, লর্ডসের পক্ষ থেকে সংশোধনী দিয়ে আবার হাউজ অব কমন্সে পাঠানো হবে। বুধবার হাউজ অব কমন্সে বিলটি পাশ হয়েছিল। আগামীদিনেও বরিসকে তার ঘোষিত নীতির পথ থেকে সরে আসতে হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইইউর শীর্ষ সম্মেলনে ব্রেক্সিট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জনসনের সরকারকে হয় এর আগে ইইউর সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে, অথবা ৩১ অক্টোবর ব্রিটেন চুক্তি ছাড়াই ইইউ ত্যাগ করবে। এই শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী পক্ষ ও সরকার পক্ষের কয়েকজন বিদ্রোহী এমপি তাদের রণকৌশল স্থির করেছেন। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে পার্লামেন্টে প্রস্তাব অনুমোদনে সক্ষম হওয়ায় ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ইইউর সঙ্গে সমঝোতা না হলে সরকারকে ব্রেক্সিটের মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। যদিও বরিস বলেছেন, এর চেয়ে তার মরে যাওয়াই ভাল।

আগাম নির্বাচনে বিরোধীদের ‘না’

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী ১৫ অক্টোবর আগাম নির্বাচন চান। কিন্তু বিরোধী দলগুলো তার পক্ষে ভোট দেবেন না। সার্বিক বিষয়ে নিয়ে গতকাল সকালে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী দলগুলো। এর মধ্যে ছিল লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক, এসএনপি এবং প্লেইড সিমরু। বৈঠকের পর লেবার পার্টির মুখপাত্র লেবার নেতা জেরেমি করবিন অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কনফারেন্স কলে আলাপ করেছেন। তারা আলোচনা করেছেন কিভাবে ক্ষতিকর চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকানো যায় এবং একটি সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করা যায় যা নিরাপদ হবে দেশের জন্য। এসএনপির নেতা ব্ল্যাকফোর্ড জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ব্যস্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু আর্টিকেল ৫০ এর সময় বাড়ানোর আগে এই নির্বাচন হবে না।

প্লেইড সিমরুর নেতা প্রধানমন্ত্রী বরিসকে নিচে নামানোর একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেটা করতে চাই। বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, সোমবার ভোটাভুটিতে হয় তারা ভোট দেবে না বা ভোটদানে বিরত থাকবে। এদিকে পুলিশকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বরিস সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে বুধবার ব্রিটেনের সরকার ঘোষণা দেয়, তারা ব্রেক্সিটের পরিকল্পনায় অতিরিক্ত ২৪০ কোটি ডলার ব্যয় করবে। এ পর্যন্ত ব্রেক্সিট থেকে বেরিয়ে আসতে ব্রিটেন সরকার সর্বমোট ১০০০ কোটি ডলারের ও বেশি ব্যয় করেছে।