নোয়াখালীতে পিটিআই ও টেকনিক্যাল স্কুলে ওড়ে বিজয়ের পতাকা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৯

দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর  নোয়াখালীকে শত্রু মুক্ত করে। সেই দিন পাকহানাদার বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি জেলা শহর মাইজদীর পিটিআই ও বেগমগঞ্জের টেকনিক্যাল হাই স্কুলসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে বিজয়ের উল্লাসে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধা ও হাজারো মুক্তিকামী মানুষ।

জেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. হানিফ এবং মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর নোয়াখালীর বিএলএফ প্রধান (মুজিব বাহিনী) সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুর রহমান বেলায়েত বলেন, ২৬ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত বৃহত্তর নোয়াখালী ছিল পাকহানাদারমুক্ত; কিন্তু ২২ এপ্রিল পাকসেনাদের নোয়াখালী দখলে নেওয়ার পথে সুবেদার মেজর লুত্ফর রহমান ও সুবেদার সামছুল হকসহ মুক্তিযোদ্ধারা বগাদিয়ায় বাধা দিলে তুমুল যুদ্ধ হয়। পরদিন ২৩ এপ্রিল পাকসেনারা নোয়াখালী দখল করে নেয়।

তারা আরো বলেন, ৬ ডিসেম্বর রাতে পাকবাহিনীর প্রধান ক্যাম্প পিটিআই ও টেকনিক্যাল হাই স্কুল থেকে পালিয়ে যায়। থেকে যায় রাজাকার-আলবদররা। পরদিন ৭ ডিসেম্বর ভোর রাতে বিএলএফ প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পিটিআই ও জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে রাজাকার-আলবদরদের ক্যাম্পে আক্রমণ চালান। রাজাকারদের সঙ্গে ওইদিন বিকাল পর্যন্ত তুমুল যুদ্ধ চলে। এ যুদ্ধে শহীদ হন একজন আনসার সদস্যসহ চারজন পথচারী। আহত হন মুক্তিযোদ্ধা মাইন উদ্দিন জাহাঙ্গীর।

এ সময় কয়েকজন রাজাকার নিহত হয় এবং অনেকে পালিয়ে যায়। একই সময় সুবেদার লুত্ফুর রহমানের নেতৃত্বে সুবেদার শামছুল হকসহ মুক্তিযোদ্ধারা টেকনিক্যাল হাই স্কুলসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে শত্রুদের পরাজিত করে বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে দেন।