উল্লাপাড়া উপজেলার বাঁখুয়া গ্রামের মো. মিঠুনের স্ত্রী তানিয়া আক্তারের (২৮) মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় নিজ ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার কানসোনা গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে তানিয়ার ১৩ বছর আগে মিঠুনের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের দুইটি পুত্রসন্তান রয়েছে। স্বামী মিঠুন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করে আসছেন।
তানিয়ার বাবা আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, মিঠুন একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। স্বামী মিঠুনকে মাদক থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে তানিয়ার সঙ্গে প্রায়ই তার গোলযোগ হতো। এ নিয়ে তানিয়াকে নির্যাতন করতো স্বামী। এ ঘটনার জের ধরে তানিয়াকে তার স্বামী স্বজনদের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে নির্যাতন করলে তার মৃত্যু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে মিঠুন তার লোকজন নিয়ে তানিয়ার লাশ ঘরের ধরনার সাথে ফাঁসির দড়ি দিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখে পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে উল্লাপাড়া থানা পুলিশকে তানিয়া আত্মহত্যা করেছে বলে মিঠুনের পরিবার থেকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূ তানিয়ার লাশ উদ্ধার করে। আলাউদ্দিন এ ব্যাপারে হত্যা মামলা করার প্রস্ততি নিচ্ছেন বলে জানান।
উল্লাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। তানিয়া আত্মহত্যা করেছে না কি তাকে হত্যা করা হয়েছে তা এই মুহূর্তে পুলিশ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের সময় তানিয়ার স্বামী মিঠুনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন মহিদুল।
ইত্তেফাক/এএম
