জামিল হোসেন। ‘মীরাক্কেল’ থেকে থেকে ফিরে অভিনয় দিয়েই শুরু করেন নিজের পেশা। প্রথমদিকে অভিনয়ে নিয়মিত না থাকলেও এখন পুরোদমে পেশাদার অভিনেতা তিনি। এবার ঈদেও অভিনয় করেছেন অনেকগুলো নাটকে। নিজের কাজগুলোর ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কাজের গঠনমূলক সমালোচনাও করেন তিনি। সেই কথাগুলো বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। এছাড়াও এখনকার নাটকের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
কেমন আছেন?
বেশ ভালো আছি। কয়েকদিন কাজের বাইরে ছিলাম। এখন আবার ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।
শুরুতে তাহলে এখনকার কাজের খবর একটু জানতে চাই—
কয়েকটি ধারাবাহিক করছি। সেগুলোর কাজ শুরু করবো। মাঝে যেহেতু ঈদ ছিল তাই ঈদের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এখন আবার নিয়মিত কাজে ফিরেছি।
ঈদের কাজগুলোর আলোচনা এখনো হচ্ছে। আপনিও ঈদে অনেকগুলো নাটক করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্র নিয়ে ভাবার সুযোগ আসলে কতটুকু পান?
চরিত্র নিয়ে ভাবার সুযোগ পাই না। আর এখন আসলে চরিত্র নিয়ে ভাবতেও হয় না। কে কয়টি আঞ্চলিক ভাষা জানেন সেটার ওপর এখন কাস্টিং করা হয়। বিষয়টা হচ্ছে এখন আঞ্চলিক ভাষা জানলে আর অভিনয় জানতে হয় না। বরিশাল, নোয়াখালি, পাবনা ভাষা যে যত ভালো পারেন তার চাহিদা ততই বেশি।
এই অবস্থার ভেতর তো আপনিও কাজ করছেন। তাহলে এখন কী শুধু বিষয়টি পেশাদার হিসেবেই দেখছেন?
সেটা তো অবশ্যই। অভিনয় এখন আমার পেশা। আমি তো আর অন্যকিছুই করি না। তাই বলা যায়, পেট চালাতেই অভিনয়টা করতে হয়। পাশাপাশি অন্যকিছু করলে হয়তো খুব বেছে বেছে কাজ করার সুযোগ আমার হতো।
আপনাকে সাধারণত গ্রাম কেন্দ্রিক নাটকেই বেশি দেখা যায়। এটা কী নিজের পছন্দের কারণে, নাকি এ ধরনের গল্পই আপনার কাছে বেশি আসে?
একজন অভিনেতা হিসেবে আমি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রেই কাজ করতে চাই। অনেক ধরনের চরিত্র করার স্বপ্নও দেখি। কিন্তু আমার কাছে যেসব স্ক্রিপ্ট আসে সেগুলোর বেশিরভাগ গ্রাম কেন্দ্রিক নাটক। এখানে হয়তো দর্শকদের একটি ভালোলাগার বিষয়ও আছে। কারণ তারা আমাকে যেভাবে দেখতে চান পরিচালকরা তার নাটকের আমাকে সেভাবেই চাইবে।
এখনকার নাটকগুলোতে ‘বিপ’ প্রচলন শুরু হয়েছে। এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
এটি আমাদের জন্য নেতিবাচক। কেন আমাদের বিপ দিয়ে নাটক করতে হবে। আগেও তো আমাদের নাটক হয়েছে। আমাদের নাটক বর্তমান যেসব বিষয় নিয়ে সমালোচিত সেগুলোর মধ্যে বিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি মনে করি আমাদের পরিচালকদের এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। একজন পরিচালক যদি চান তার নাটকের এমন কোনো ডায়লগ থাকবে না, যেখানে বিপ দিতে হবে তাহলেই এটি সম্ভব।
ইউটিউব ও অন্যান্য স্ট্রিমিং সাইটেও এখন নিয়মিত নাটক প্রচার হচ্ছে। কোনো ধরনের প্রিভিউ ছাড়া এই নাটকগুলো নিয়ে কী বলবেন?
ইউটিউব বা অন্যান্য ডিজিটাল প্লাটফর্ম আমাদের জন্য ইতিবাচক। কাজের পরিধি বাড়লে আমাদের জন্যই ভালো। কিন্তু নাটকের যে সমালোচনাগুলো রয়েছে সেগুলো সবদিকেই প্রচলিত।
আপনার যারা ‘মিরাক্কেল’ প্লাটফর্ম থেকে এসেছেন তারা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু স্ট্যান্ডআপ কমেডি নিয়ে কোনো কাজে আপনাদের পাওয়া গেল না কেন?
সেই চেষ্টা আমরা করেছি। এই বিষয়ে এর আগেও অনেক কথা বলা হয়েছে। এজন্য যে স্পন্সর প্রয়োজন তা পাইনি। আসলে স্ট্যান্ডআপ কমেডি বিষয়টি স্পন্সর কোম্পানিকে বোঝাতে আমার মাথার চুল পেকে যাবে।
