শোকাহত
ক্রিকেট বিশ্ব
আব্দুল কাদির : ১৯৫৫-২০১৯
স্পোর্টস ডেস্ক
লেগ স্পিন কিংবদন্তি আব্দুল কাদিরের মৃত্যুতে ক্রিকেট বিশ্বে এখন শোকের ছায়া। শোক জানিয়েছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার, পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান, আরেক বিখ্যাত লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নসহ অন্য ক্রিকেটাররাও। পাকিস্তানের এই সাড়া জাগানো স্পিনার গত শুক্রবার গভীর রাতে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে লাহোরে নিজ বাড়িতে মারা যান। আসছে ১৫ সেপ্টেম্বর তার বয়স হতো ৬৩।
শচীন টুইটারে লেখেন আবদুল কাদিরের বিরুদ্ধে খেলার কথা স্মরণ করছি। তিনি ছিলেন তার সময়ের সেরা স্পিনারদের একজন। তার পরিবারের প্রতি রইল সমবেদনা।’ শেন ওয়ার্ন বলেন, ‘আব্দুুল কাদিরের ব্যাপারে এটা বেশ দুঃখের এক সংবাদ। আমাদের যুগে আমার মতো যারা লেগ স্পিন করত তারা তাকেই অনুসরণ করত। সে ভয়ঙ্কর এক বোলার ছিল, যে অনেক ব্যাটসম্যানকেই হতভম্ব করে দিত।’
সাবেক সতীর্থ ইমরান খান বলেন, ‘কাদিরের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি ব্যথিত। এর মধ্য দিয়ে আমি একজন ভালো বন্ধু ও সতীর্থকে হারালাম এবং যা অত্যন্ত কষ্টের। বিশ্ব ক্রিকেটে কাদির পাকিস্তানের নামকে উজ্জ্বল করেছেন। আমরা সব সময় তাকে একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার হিসেবে স্মরণ করব।’
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আবদুল কাদিরের মতো একজন কিংবদন্তির হঠাত্ বিদায়ে পিসিবি বিস্মিত ও শোকাহত। তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।’
আশির দশকের পর ক্রিকেট বিশ্বে নতুন কোনো লেগ স্পিনার ভালো করলেই ওঠে আসত তার প্রসঙ্গ। হোক সেটা শেন ওয়ার্ন কিংবা একালের রশিদ খান। ৭০ থেকে ৮০-এর দশকে বিশ্বের সেরা স্পিনারদের অন্যতম সেরা ছিলেন তিনি। লাহোরে ১৯৭৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকের পর ৬৭ টেস্টে ২৩৬ উইকেট শিকার করেন কাদির। টেস্ট ক্রিকেটে তার সেরা বোলিং হলো ৯/৫৬। ১৯৮৭ সালে ইংলিশদের বিপক্ষে হাঁকানো এই রেকর্ড টেস্টে এখনো পাকিস্তানের কারো সেরা বোলিং।
একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০৪ ম্যাচে ১৩২ উইকেট শিকার করা কাদিরকে ১৯৮৩ বিশ্বকাপে আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন অধিনায়ক ইমরান খান। এরপর ১৯৮৭ বিশ্বকাপও খেলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে অবসর নেওয়া কাদির অল্প কিছুদিনের জন্য পাকিস্তানের অধিনায়কও ছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে পাকিস্তানের প্রধান ক্রিকেট নির্বাচকও ছিলেন তিনি। লাহোরে নিজের উদ্যোগে ক্রিকেট একাডেমি গড়েছিলেন। ধারাভাষ্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।
