প্যারিসে সহিংস বিক্ষোভ কাঁদানে গ্যাস

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৩

ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবারও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে।  রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে ৫ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

প্যারিসের কেন্দ্রস্থল এলিসি প্রাসাদের কাছে প্রায় আট হাজার বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে জড়ো হয়। পুলিশ বেস্টনির খুব কাছাকাছি পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুড়ে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের সহিংসতার কথা জানা যায়নি। যদিও সরকার বড় ধরনের সহিংসতার আশংকা করেছিল। পুরো দেশজুড়ে ৩১ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী অংশ নেয়।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মন্ডের এক সাংবাদিক জানান, আগের দিনগুলোর তুলনায় শনিবার বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা কম দেখা গেছে। এদের বেশিরভাগই পুরুষ এবং বয়স ২০-৪০ বছরের মধ্যে। সহিংসতার আশঙ্কায় নারী ও বয়স্করা বিক্ষোভে কম অংশ নিয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী একজন বিক্ষোভকারী জুইলাউমি লি গ্রাক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখানে শান্তিপূর্ণ মিছিলে এসেছি, ভাঙচুর করতে নয়। আমরা জীবনমানের উন্নতি চাই, আমরা বাঁচতে চাই, টিকে থাকতে চাই না।’

জ্বালানির কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে গত ১৭ নভেম্বর থেকে চলছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। ফ্রান্সের ইতিহাসে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সহিংস বিক্ষোভ। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত তিনজন প্রাণ হারিয়েছে। আন্দোলনের মুখে ফ্রান্স সরকার জ্বালানি কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি বাতিল করলেও অন্যান্য ইস্যুতে বিক্ষোভ অব্যাহত আচে। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বিক্ষোভকারীরা সরকারকে ন্যুনতম পেনশন, কর ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন, অবসরের বয়সসীমা কমানোসহ ৪০টিরও বেশি দাবি-দাওয়া দিয়েছে। তবে সরকারের মন্ত্রীরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলন চরমপন্থীদের হাতে চলে গেছে।

শনিবারের বিক্ষোভে সহিংসতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগেই জোরদার করে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ এদুয়া ঘোষণা করেছিলেন, শনিবার আইফেল টাওয়ার খুলবে না। প্যারিসের এলিসি প্রাসাদের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ রাখার কথা জানায় পুলিশ। স্থগিত করা হয় বেশ কয়েকটি ফুটবল ম্যাচও। বিক্ষোভ দমনে ফরাসি সরকার দেশজুড়ে ৯০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে। রাজধানী প্যারিসেই মোতায়েন করা হয়েছে আট হাজার পুলিশ ও ১২টি সাঁজোয়া যান।