জীবনমান উন্নয়নে সেবার মান বাড়াতে হবে গ্রামে

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৪

সানেম সম্মেলনে বক্তারা

 ইত্তেফাক রিপোর্ট

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘ঔপনিবেশিক ধারায় সব সুযোগ-সুবিধা ছিল শহরকেন্দ্রিক। যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার ৯০ ভাগই চলে যেত সরাসরি শহরে। ঔপনিবেশিক প্রভুরা চলে যাওয়ার পরে এই সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সরকার তা অনেকখানি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। দারিদ্র্য নিরসন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গ্রামাঞ্চলে সেবা উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে।’ সাউথ এশিয়া ইকোনমিক পলিসি নেটওয়ার্ক (সানেম) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত চতুর্থ সাউথ এশিয়া ইকোনমিক নেটওয়ার্ক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল সাব-ন্যাশনাল ফিন্যান্স অ্যান্ড লোকাল সার্ভিস ডেলিভারি।

গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টিমবন, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. হ্যান্স টিমার।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টিমবন বলেন, অপ্রতুল শাসনকাঠামো দক্ষ স্থানীয় সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্তরায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একে অপরের কাছ থেকে শিখতে হবে। প্রথম সেশনের বিষয় ছিল লোকাল গভর্নমেন্ট ফিন্যান্সেস অ্যান্ড সার্ভিস ডেলিভারি। এই সেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এই সেশনে তিনটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিন্যান্স অ্যান্ড পলিসির ড. মণীষ গুপ্ত, নেপালের ন্যাশনাল ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড ফিসকাল কমিশনের ড. গোপী কে খানাল ও বিআইডিএসের ড. মনজুর হোসাইন।

অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাহলে তাদের নিজেদের কাজ করার সক্ষমতা আরো বাড়বে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বিকেন্দ্রীকরণে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে সফলতা পেয়েছে। আমাদের দেশ এমন উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আছে। আমাদের স্থানীয় সরকারের অর্থায়নের জন্য বহুলাংশে নির্ভর করতে হয় কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর। তা-ও সেখান থেকে মাত্র ৯ শতাংশ অর্থায়ন হয়। উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে এটি ১৯ শতাংশ এবং উন্নত দেশে তা ২৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে হবে। বিভিন্ন ধরনের বন্ডের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের অর্থ সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালে আমিও এ বিষয়ে গ্রিন বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’

‘ফাইন্যান্সিয়াল ডিসেন্ট্রালাইজেশন অ্যান্ড করাপশন’ শীর্ষক অপর এক সেশনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। সেশনটিতে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঞ্চালী ব্যানার্জি এবং পাকিস্তানের ফাতিমা জিন্নাহ উইমেন ইউনিভার্সিটি থেকে ড. বুশরা ইয়াসমীন গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেশনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার-সংক্রান্ত উপদেষ্টা ড. ইশরাত হুসেইন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার সব সময়ই প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতায়ন ও বিকেন্দ্রীকরণের বিরোধিতা করেছে, যার পেছনে মূল কারণ প্রাদেশিক সরকারগুলোর সক্ষমতার অভাব। কিন্তু আমরা যদি প্রাদেশিক সরকারগুলোকে ক্ষমতায়িত করি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করি, তাহলেই তাদের সক্ষমতা তৈরি হবে।’