উত্পাদনে যাচ্ছে ব্যয়বহুল সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুেকন্দ্র

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:১৬

চুক্তি সইয়ের সাত বছর পর পুরো উত্পাদনে আসছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র। পরীক্ষামূলক উত্পাদনশেষে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু হতে পারে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্যমতে এটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল’ বিদ্যুেকন্দ্র। দীর্ঘ বিলম্বে চালু হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে কেন্দ্রটির সব সময় উত্পাদনে থাকা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বর্তমানে কেন্দ্রটির স্টিম টারবাইন ইউনিটে (কম্বাইন্ড সাইকেল-১১৭ মেগাওয়াট) পরীক্ষামূলক বিদ্যুত্ উত্পাদিত হচ্ছে। ২১৮ মেগাওয়াটের গ্যাস টারবাইন (সিম্পল সাইকেল) ইউনিট ২০১৮ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক উত্পাদনে গেলেও পরে বিঘ্ন ঘটে। কোম্পানি সূত্র জানায়, পূর্ণ ক্ষমতার কেন্দ্রটি চালাতে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। পরীক্ষামূলক উত্পাদনের সময় গত কয়েকদিন ধরে এই কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করতে পাশের আরেকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রটির মালিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি)। গতকাল শনিবার বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যয় বেশি হলেও এটি দেশের সর্বাধুনিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট। বর্তমানে গ্যাসের যে প্রেসার আছে তা ধরে রাখতে পারলে খুব সাশ্রয়ী দামে এখান থেকে বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে। গ্যাস সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে নসরুল হামিদ বলেন, দুই একদিনের মধ্যে জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বৈঠক হবে।

ইজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ কুমার সাহা বলেন, তিতাস গ্যাস তাদের গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। পাইপ লাইনের কাজ চলছে। সেটি সম্পূর্ণ হলে এলএনজির সরবরাহ বাড়বে। তখন গ্যাস দেওয়া সম্ভব হবে।

বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, তিন হাজার ৯৭১ কোটি টাকার এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ রয়েছে দুই হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। সরকারের বিনিয়োগ ৫৪০ কোটি টাকা এবং ইজিসিবির বিনিয়োগ ৪৮৯ কোটি টাকা। এই কেন্দ্রে উত্পাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম হবে দুই টাকা ৩২ পয়সা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে কিলোওয়াট প্রতি উত্পাদন ব্যয় হয়েছে ৯৬১ ডলার। এটি বর্তমানে বিশ্বে নির্মিত এ ধরনের বিদ্যুেকন্দ্রের নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। আইএমইডির প্রতিবেদন মতে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডমিনিয়ন ভার্জিনিয়া পাওয়ার প্ল্যান্টে। এর প্রতি কিলোওয়াটের জন্য ব্যয় হয়েছে ৯৫৫ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল বিদ্যুেকন্দ্র পাকিস্তানের সিন্ধু ইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্ট। যার প্রতি কিলোওয়াটের খরচ ৮৫৪ ডলার।

২০০৭ সালে একনকে অনুমোদন পাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট প্রকল্পটি নির্মাণে ২০১২ সালে স্পেনের আইসোলাক্স ইঞ্জিনিরিয়া এস এবং স্যামসাং সি অ্যান্ডটি গ্রুপের সঙ্গে ইজিসিবির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে ২০১৪ সালের মার্চে সিম্পল সাইকেল উত্পাদনে আসার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি কোম্পানির গাফিলতিতে কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও কাজ হয়নি। পরবর্তীতে আইসোলাক্স ঠিকাদারির কাজ ছেড়ে চলে যায়। পরে অপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়।

এদিকে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী সকালে সিদ্ধিরগঞ্জে ইজিসিবির অর্থায়নে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান উপস্থিত ছিলেন।