তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ, মৃত্যুর তিন মাস পর সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:২৮

মোটা অঙ্কের ঘুষ চেয়ে না পেয়ে মৃত ও বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের নামে সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করে এক হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশিট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই কর্মকর্তা হলেন পিবিআই এর ইনস্পেক্টর মো. হারুনুর রশিদ। 

রবিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আল আমিন হত্যা মামলার আসামি নবীনগরের বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান ভূইয়া। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা মোট ৩৯ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফ (৭৩) অন্যতম। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর আবদুর রউফ ইন্তেকাল করলেও সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি নেয়ার তারিখ দেখানো হয়েছে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি। অর্থাৎ তার মৃত্যুর ২ মাস ২৯ দিন পর তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আরেকজন মেরাকুটা গ্রামের অজন্ত কুমার ভদ্র (৬৬) এর স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু তিনি বৈধ পাসপোর্টে ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারী ভারত যান তিনি। সেখান থেকে দেশে ফেরেন ৮ ফেব্রুয়ারি। 

আরও পড়ুন : রশিদ-জহিরের ঘুর্ণিতে কাবু বাংলাদেশ

এছাড়া আরও অভিযোগ করা হয়, মামলার অন্য ২৪ জন সাক্ষী আদালতে এফিডেভিট জমা দিয়ে বলেছেন তারা পিবিআই’র ওই কর্মকর্তার কাছে কোন রকম সাক্ষীই দেননি। 

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ খানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন আবদুল হান্নান ভূইয়া। 

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, নবীনগরের শিবপুর ইউনিয়নের বাঘাউড়া গ্রামে ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে আল আমিন (২২) খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা কসবার খাড়েরা ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

এই মামলায় পাশ্ববর্তী সেমন্তঘর গ্রামের আবদুল হান্নান ভূইয়া, তার ছেলে পলাশ (ইফতেখার মাহমুদ) সহ মোট ৫ জনকে আসামি করা হয়। হত্যা মামলাটির সর্বশেষ তদন্ত করে পিবিআই। এর আগে প্রথমে সিআইডি এবং এরপর গোয়েন্দা পুলিশ এই মামলার তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এই দুটি সংস্থার তদন্তেই প্রকাশ পায় আবদুল হান্নান ভূইয়ার সাথে আল আমিনের ভগ্নিপতি জাকির হোসেনের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ রয়েছে। আবদুল হান্নানকে শায়েস্তা করতে নিজের শ্যালককে হত্যা করে জাকির হোসেন। এরপর আবদুল হান্নান, তার ছেলেসহ ১০জনকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। 

দুটি সংস্থার অভিযোগপত্রে বলা হয় ঘটনার আগের দিন ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতের স্ত্রী ইতির নানীর বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায় আল আমিনের ভগ্নিপতি জাকির ও তার সহযোগী শাওন, বিল্লাল ও মোবারক। খাওয়ার পর জাকির ইতিকে ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত খাবার দিয়ে আল আমিনকে নিয়ে পাশের বাড়িতে নাছির ফকিরের মাহফিলে চলে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে হত্যা করে। এরপর লাশ গ্রামের একজনের বাড়িতে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। 

সিআইডি এবং গোয়েন্দা পুলিশ জাকির হোসেন (৩৮), তার সহযোগী বিল্লাল (৩৭), শাওন ওরফে রানা (৪২), মোবারক মিয়া (৩৬) এঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগপত্র দেয়। অন্যদিকে পিবিআই এই ৪ জনকে নির্দোষ বলে তাদের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে। এমনকি সিআইডি’র প্রথম দিকের তদন্তে ঘটনায় জড়িত বলে যে ৬ জনের নাম প্রকাশ পায় তাদেরকে সাক্ষী বানিয়ে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। 

ইত্তেফাক/কেআই