মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত এটুআই এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) যৌথ আয়োজনে সম্প্রতি রাজধানীর সেগুনবাগিচার পূর্ত ভবনের পিডব্লিউডি অডিটরিয়ামে আয়োজিত হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সমন্বয়করণ ও ডিজাইন ল্যাবের সমাপনী অনুষ্ঠান। অনু্ষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। অনু্ষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।
ডিজাইন ল্যাবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই ডিজাইন ল্যাবে ডিজাইনকৃত প্ল্যাটফরমের আওতায় মোট ৩৪টি সেবাকে ৪২টি মডিউল ৩টি পর্যায়ে আগামী ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা পরিপূর্ণভাবে ডিজিটালাইজ করব।’ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা একটি সেন্ট্রাল হেল্থ মেডিক্যাল রেকর্ড তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করছি, যার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের প্রায় ৯০ ভাগ সেবাকে ডিজিটালাইজ করা সম্ভব।’ ডিজাইন ল্যাবের মাধ্যমে বিএসএমএমইউ-এর সেবাগুলোকে ডিজিটাল করার পরিকল্পনা করায় এটুআইকে ধন্যবাদ প্রদান করেন এবং পরিকল্পনাকৃত সেবাগুলোকে বাস্তবায়নে আগামী দিনে সহযোগিতা করার জন্য এটুআইকে নির্দেশনা প্রদান করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘এই কর্মশালায় ডিজাইনকৃত ডিজিটাল সার্ভিসগুলোর মাধ্যমে আমরা আরো সহজে এবং দক্ষতার সঙ্গে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে পারব। স্বাস্থ্য খাতকে ডিজিটালাইজড করতে পারলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জন সফলতা লাভ করবে।’
তিনি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে জড়িত সবার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানান। এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এই কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পাশাপাশি এই ডিজিটাল সেবাগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমাকে যুক্ত করা হলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।’
ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাবে ১২টি গ্রুপের পর্যালোচনায় একটি ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি প্ল্যাটফরমের বিষয় উঠে এসেছে। যার মাধ্যমে স্মার্ট হেলথ কার্ড, অধিক সংখ্যক রোগীকে সেবা প্রদান, হেলথ রেকর্ড সংরক্ষণ, অনলাইন/ অফলাইনের/কলসেন্টারের মাধ্যমে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি, বিভিন্ন ধরনের টিকার তথ্য ও সময় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রদান, রোগের রিপোর্ট ডাটাবেজে সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। আর সেবা প্রদানকারীরাও সাধারণ রোগীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগের বিস্তারিত তথ্য তাত্ক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন এবং বাংলাদেশের সব রোগীর ডাটাবেজ তৈরি হবে।
