১২ ঘণ্টা জনদুর্ভোগের পর চট্টগ্রামে রবিবার বিকেল ৫টায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে পরিবহন সংগঠনগুলো। আজ ভোর থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। তাতে সকল ধরণের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
আজ বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পরিবহন সংগঠন, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সিটি মেয়রের সাথে ধর্মঘট নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন বলে জানান ধর্মঘট আহ্বানকারী পরিবহন সংগঠনের নেতারা।
বৈঠক শেষে সংগঠনের আহ্বায়ক মনজুরুল আলম মঞ্জু ইত্তেফাককে বলেন, 'আমাদের ৯ দফা দাবী নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সিটি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দিন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমাদের যৌক্তিক দাবী গুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি।'
বিআরটিএ ও পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডাকে 'চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ' নামে একটি সংগঠন। ধর্মঘটের আওতায় ছিল চট্টগ্রামসহ ১৪টি জেলা। ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকাল ৬টা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দাবি পূরণ নিয়ে তারা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের সাড়া না মেলায় ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন সংগঠনটি।
পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আজ সকাল থেকে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক চলাচলও বন্ধ ছিল। ফলে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। নগরী বিভিন্ন ব্যস্ততম জংশন গুলোতে গাড়ির জন্য বিভিন্ন পেশার মানুষের ভিড় জমে যায়। শহরের ভেতরে বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু টেম্পো চললেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
আরও পড়ুন: সাদ-রাজু-রিটাসহ ১১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
ফলে যানবাহন না পাওয়ায় কর্মজীবীদের দীর্ঘ রাস্তা পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে হয়েছে। রিকশাই ছিল ভরসা। শহর থেকে দূরপাল্লার বাস না চলায় এসব রুটের যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ে। আবার কয়েকটি পরিবহন সংগঠন ধর্মঘটের বিপক্ষে ছিল। কিন্তু ধর্মঘট পালনকারীদের বাধায় তারা যান চলাচল করতে পারেনি।
ইত্তেফাক/এসএস/নূহু
