এনআরসির বলি বাঙালিরাই

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩২

চিন্তিত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

তারিক হাসান

 

আসামে এনআরসির (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ লোক। তার মধ্যে বাঙালিই ৯০ শতাংশের বেশি। আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ বাঙালি বাদ পড়েছেন। এর মধ্যে ১২ লাখ বাঙালি হিন্দু। বাকিরা মুসলিম। বাকি দেড় লাখও হিন্দু। আর এটা নিয়েই সমস্যায় পড়েছে বিজেপি।

বলতে দ্বিধা নেই যে, এনআরসির প্রধান লক্ষ্য ছিলেন মুসলিমরা। তাদের বাদ দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবে হয়ে গেছে উলটো। এমনকি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে আসামের বহু মূলনিবাসী। আর এটা নিয়েই সরব হয়েছে আসামের বেশ কয়েকটি সংগঠন। তারা দাবি তুলেছে, তালিকা ঠিক হয়নি। আবার এনআরসি করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের দাবি আসামে অন্তত ১ কোটি বাঙালি রয়েছেন। তাই এনআরসির তালিকা থেকে অন্তত ১ কোটি মানুষের নাম বাদ যাওয়া উচিত ছিল। অর্থাত্ প্রাদেশিকতায় মেতেছেন তারা। প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য আসাম থেকে বাঙালি হটাও।

১৯৬১ সালের ১০ মে আসামের শিলচরে বহু বাঙালি পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলন করে। এখন আসামে আক্রমনের লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন বাঙালিরা। তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন তারাও যে নিশ্চিত থাকতে পারবেন, তা নয়। ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে তালিকায় থাকা অন্তত ১০ শতাংশের নতুন করে এনআরসি করার। এই দাবি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার। চাপে পড়েও বিজেপি পিছু হটতে চাইছে না। বিজেপির নেতারা দাবি তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি এবং তেলেঙ্গানা রাজ্যে এনআরসি করার। পশ্চিমবঙ্গের না হয় কারণ বোঝা গেল। কিন্তু দিল্লি আর তেলেঙ্গানার পেছনে যুক্তি কি তা বোধগম্য হচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি করার যে চেষ্টা বিজেপি করছে তা নিয়ে আতঙ্কিত নমশুদ্র সম্প্রদায়। ভারত ভাগের পর এবং পাকিস্তান আমলে বহু মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে এসেছিলেন। তারাই বেশি শঙ্কিত হচ্ছেন। কারণ আসামে এনআরসির সময়সীমা ধার্য হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ। বাস্তবে দেখা গেছে ১৯৬৪ সালে আসা মানুষেরও তালিকায় নাম ওঠেনি। নমশুদ্র সম্প্রদায়ের মানুষরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হলে ৪০ শতাংশ মানুষের নাম বাদ পড়বে। পশ্চিমবঙ্গের জন সংখ্যা ৯ কোটির কিছু বেশি। সেই হিসাবে আশঙ্কা থাকছে সাড়ে ৩ কোটি মানুষের নাম বাদ যাওয়ার।

স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এনআরসিবিরোধী প্রস্তাব পাশ করিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে জাতীয় কংগ্রেস এবং সিপিএমও। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল। তবে বিজেপি বলেই চলেছে, তারা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলেই এনআরসি চালু করা হবে। ফলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের।