সমঝোতা নয় প্রতিরোধ চায় ইরান

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৭

'সমঝোতা নয়, প্রতিরোধই সংকট উত্তরণের একমাত্র উপায়' বলে রবিবার সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন ইরানি পার্লামেন্টের স্বতন্ত্র ভেলায়ই অংশের সদস্য আহমেদ সালেক। সংসদে তিনি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সমালোচনা করে বলেন, বন্ধুত্বসুলভ আচরণ কোন কাজেই আসবে না এবং এজন্যই তারা নিউক্লিয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পথে পা বাড়িয়েছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতা কোন ভালো ফল বয়ে আনবে না, বরং আমাদের চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।' খবর: মেহর নিউজ এজেন্সীর।

ইরানের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের বর্তমান চাপের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা মোকাবেলার জন্য আমাদের নিউক্লিয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পথে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। যারা আজ ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তারা তাদের অসততা ও অবিশ্বস্ততার পরিচয় বিভিন্ন সময়ে দিয়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে কোনরূপ সমঝোতা ভালো ফল বয়ে আনবে না।'

এর আগে গত ২৬ আগস্ট প্রেসিডেন্ট রুহানি ইরানের সংকট নিরসনে যে কোন ধরনের আলচনায় বসার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এরপরদিনই আবার তিনি যুক্ত্ররাষ্ট্রকে ইরানের ওপর থেকে সকল অন্যায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে এবং রাষ্ট্রের অধিকারকে সম্মান জানিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

গত শনিবার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র কমিটির চেয়ারম্যান মোজতবা জন্নূর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, 'রুহানির এরূপ দূর্বল আচরণ ইরানের অর্থনীতিকে বিপদের দিকে ঠেলে দিবে। রুহানি বড় ধরনের ভুল করতে যাচ্ছেন।'

গত শনিবার ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা ইউরোনিয়ামের সক্ষমতা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি নিউক্লিয়ার চুক্তি বিষয়ে দ্রুত আলোচনার তাগিদ জানিয়ে তারা দাবি করেন, ইউরেনিয়ামের সক্ষমতা আরও বাড়াতে তারা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছেন এবং ইউরোপের হাতে সময় খুব কম।  

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউক্লিয়ার চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ধর্মঘট প্রত্যাহার

এদিকে ইরানি রাজনীতিকদের এ ধরণের আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপ। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ইরানের কর্মকাণ্ড বিশ্বনিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, তবে আলচনার পথ এখনও খোলা আছে।

ইত্তেফাক/এসএস/নূহু