বিএমডিএর আট প্রকৌশলীর স্ট্যান্ড রিলিজ আদেশ স্থগিত

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪১

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আট জন প্রকৌশলীর স্ট্যান্ড রিলিজের (তাত্ক্ষণিক বদলি) আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশে প্রকৌশলীদের তাত্ক্ষণিক বদলির আদেশ স্থগিত করেছে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ। বিএমডিএর একাধিক সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। কৃষিমন্ত্রী ফোন করে বদলির আদেশ স্থগিতের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেছেন, বিএমডিএর চেয়ারম্যানের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার ঐ আট জন কর্মকর্তাকে প্রাশাসনিক কারণে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই ঐ আদেশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, আলোচিত আট প্রকৌশলীর স্ট্যান্ড রিলিজের কারণ দুর্নীতি নয়, প্রাশাসনিক।

আলোচিত প্রকৌশলীরা হলেন বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হুদা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবুল কাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে) তরিকুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান, জয়পুরহাট রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন্ত কুমার বসাক, রাজশাহীর পবা জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী রাহাত পারভেজ ও দুর্গাপুর জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম।

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জানান, বৃহস্পতিবার বিএমডিএর রাজশাহীর প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা অভিযোগ তদন্তে আসেন। এরপর ঐ দিনই বিএমডিএর চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী আট জন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ দেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিএমডিএ। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অডিট আপত্তি, কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি প্রকৌশল ভবন নির্মাণ করেও সেখানে প্রকৌশলী না থাকা, পিপিআর অমান্য করে খণ্ড খণ্ড আকারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন, গোদাগাড়ীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার হিসাবে জালিয়াতি, চলমান প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি, সরকারি পরিপত্র অমান্য করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচ্চতর বেতন স্কেল প্রদান এবং পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার।