রংপুর-৩ উপনির্বাচন

রংপুরে দ্বিধাবিভক্ত জাতীয় পার্টি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০০

সাদে সাধ নেই, ভাতিজার ভাত নেই, ইয়াসিরে ইয়েস নেই। অবশেষে অনেক জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটলেও টালমাটাল হয়ে পড়েছে রংপুরের জাতীয় পার্টি। রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে পার্টির প্রার্থী হিসেবে রওশনপুত্র সাদের নাম ঘোষণা করা হলেও সাদে সন্তুষ্ট নন মহানগর জাতীয় পার্টি। তাই শেষ পর্যন্ত ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে রংপুর জাতীয় পার্টিতে।

মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম-সম্পাদক লোকমান হোসেন জানান, রংপুরের মাটি জাতীয় পার্টির ঘাঁটি। এ ঘাঁটি নিয়ে দলের ভেতরে ষড়যন্ত্র করতে করতে দুটি আসন ছাড়া সব কটি আসন হারাতে হয়েছে আমাদের। এবার প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদের নিজ আসন হারানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে সাদকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও মহানগর জাতীয় পার্টির অঙ্গসহযোগী সংগঠনসহ রংপুরবাসীর আগ্রহ নেই তার প্রতি। কারণ সাদে কোনো সাধ নেই। ’৯১ ও ৯৬ সালের যুগ এখন আর নেই। মিজান চৌধুরী ও কাজী জাফরের সময় আর এখনকার সময় এক নয়। যাকে রংপুরবাসী চিনে না, তাকে ভোট দেওয়া তো দূরের কথা, তার পক্ষে কাজও করবে না পার্টির নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা জাতীয় পার্টির এক নেতা জানান, এরশাদের ভাতিজা রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি স্বয়ং হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফেরই ভাত নেই। সেখানে জাতীয় পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ ইয়াসিরের মনোনয়ন নিশ্চিত করা হলেও পরে অদৃশ্য কারণে তা বাতিল করে সাদ এরশাদকে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ইয়াসিরকে নো বলা হয়েছে। ফলে দ্বিধান্দ্বন্দে পড়েছেন পার্টির কর্মী ও সমর্থকেরা।

এদিকে এ ঘটনায় রংপুর জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ ইয়াসির রবিবার দুপুরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের বলেন, সাদ এরশাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা না হলে প্রয়োজনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। সব নেতাকর্মী এজন্য প্রস্তুত রয়েছে।

অপরদিকে রবিবার সকালে সাদ এরশাদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শাফিউল ইসলাম শাফি, জেলা জাপা নেতা আজমল হোসেন লেবু ও হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার ব্যক্তিগত সহকারী সামসুল আলম, আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্যরা।