বিয়ের দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে তরুণীর অনশন

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:১৫

বিয়ের দাবিতে ১০ দিন ধরে ঠাকুরগাঁওয় সদর উপজেলার রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সজলের (২৫) বাড়িতে অনশন করছে এক তরুণী। গত ৩১ অগাস্ট থেকে ওই তরুণী তাদের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সজলের বাবা হামিদুল ইসলাম।

ওই তরুণী বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সজল আমার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর আমি তাকে বিয়ে করতে বললে সে তাতে রাজি না বলে জানান। তাই আমি তার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছি। আমি তাকে বিয়ে করবো। অন্যথায় এখানেই আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো।

এর আগে ওই তরুণী সজলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। সে মামলার পুলিশ তাকে আটক করে। সজল জামিন মুক্ত হওয়ার দিনই অনশন শুরু করেন ওই তরুণী।

এ বিষয়ে ওই তরুণী বলেন, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় থানায় মামলা করেছি। জেলে থাকার সময় সজল বলেছে, সে যেদিন জেল থেকে বের হবে সেদিন যেন আমি তার বাড়িতে যাই। তাই এসেছি। কিন্তু এখন সে বিয়ে করছে না।

আরো পড়ুন: বাড়িতে মলমূত্র নিক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে থানায় রাবির রেজিস্ট্রার

সজলের মা সাহেরা বানু বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এটা সত্য। গত ২৪ জুন ওই মেয়ের পরিবারের লোকজন আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে তাদের বাড়িতে আটকে রাখে। তারা বিয়ের জন্য সজলকে চাপ দেয়। রাজি না হওয়ায় ২৬ জুন সজলের বিরুদ্ধে রুহিয়া থানায় ধর্ষণ মামলা করে ওই মেয়ে।

সজলের বাবা হামিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলায় আমার ছেলে ৬১ দিন কারাগারে ছিল। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে গত ৩১ আগস্ট সজল বাড়ি আসার কিছুক্ষণ পর তার প্রেমিকা আমাদের বাড়িতে চলে আসে। সে তার পরিবারের লোকজনের সহায়তায় বাড়ির একটি কক্ষে ঢুকে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে। বাধা দিলে তারা আমার স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে মারধর করে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটি আমাদের বাড়িতেই রয়েছে।

১ নম্বর রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু, ২১ নম্বর রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সেন ও সালন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মুকুল বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

আরো পড়ুন: ভক্তদের গায়ের ‘দুর্গন্ধ’ মোটেই পছন্দ নয় রানুর

ওই তরুণীর করা ধর্ষণ মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে রুহিয়া থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ‘আমরা এখনো মেডিকেল রিপোর্ট পাইনি। সেটা পেলে অগ্রগতি বলা যাবে।’

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ পুলক বলেন, সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে দায়ে সজলকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ