নাগমুদ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়

জরাজীর্ণ ভবনের ওপর চলছে সম্প্রসারণের কাজ!

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪৯

রামগঞ্জ উপজেলার নাগমুদ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছাদে কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এতে অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজন ভবন ধসের আশঙ্কায় হতাশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮/২০১৯ইং অর্থবছরে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগমুদ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ভবনের ছাদে এক্সটেনশনসহ পাঁচটি রুম ও একটি টয়লেট নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিসান এন্টারপ্রাইজ। ১৯৯৮/৯৯ইং অর্থবছরে নির্মিত ২১ বছরের পুরাতন ভবনের ছাদে ৪ সেপ্টেম্বর সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেন। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়েন।

শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের রামগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে দেখার পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

স্থানীয় আবদুস সালাম, রঈছ উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটির বিমগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেওয়ালগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। দেওয়ালের নিচের অংশে ভাঙন দেখা দিলেও ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের ছাদে আরো একতলার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

জিসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলতাফ হোসেন জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ভালো বলতে পারবেন। পুরাতন ভবনের ছাদে নতুন আরেকতলা (সম্প্রসারণ) করা যাবে কি না। তবে আমরা টেন্ডার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে বলা হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ করছি।

প্রধান শিক্ষক আবদুস ছালাম জানান, আমি শিক্ষক মানুষ। বিদ্যালয়ের কাজ কে পেয়েছে বা কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।

ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বশির আহম্মেদ মানিক জানান, উপজেলা নির্বাহী স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি এ ব্যাপারে। তবে জরাজীর্ণ ভবনে কীভাবে সম্প্রসারণের কাজ চলছে এটা বোধগম্য নয়।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী দিপঙ্কর খীসা জানান, সম্প্রতি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর চাকরির মেয়াদকাল পূর্ণ হওয়ায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। তারপরও আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখবো কি করা যায়।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির জাহান বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। যদি এমনটাই হয়, তাহলে আগে থেকে সাবধান না হলে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি আমার ওপরের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।’