সরকারি ঘোষণায় লাভবান ব্যবসায়ীরা! হতাশার বৃত্তেই কৃষক

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা পর ধানে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে মণ প্রতি ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত। ঘোষণার আগে কৃষকরা ৫৫০-৬০০ টাকার দরে বাজারে ধান বিক্রি করেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বেশিরভাগ কৃষক। ধান চাষীরা বলছেন, সরকার আমন ধান কাটা শুরুতেই যদি সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা করতেন তাহলে এবার লাভবান হতেন বলে ধারণা বেশিরভাগ কৃষকের। শেষ মুহূর্তের ঘোষণায় লাভের অংশ ব্যবসায়ীদের ঝুঁলিতেই গেল।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ে এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল এক লাখ ৩৭ হাজার ১৪১ হেক্টর, আর অর্জিত হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৭৯০ হেক্টর।

খাদ্য বিভাগ সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে সরকার ৩৬ টাকার দরে চাল সংগ্রহ করার উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। ঠাকুরগাঁও থেকে চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। ফলে বর্তমানে বাজারে মণপ্রতি ৭০০ টাকা দাম পাচ্ছে কৃষকরা। তাছাড়া জেলায় বরাদ্দের তালিকা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সরকার সংগ্রহ অভিযানের পরেও ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের দাম গত বছরের তুলনায় কম হওয়ায় খুশি হতে পারছেন না কৃষকরা। গত বছরের এই সময়ে ৮০ কেজি আমন ধান এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ বছর প্রথম ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছে। হঠাত্ করে মন প্রতি ১০০-২০০ টাকা বৃদ্ধির পরেও হতাশ এ অঞ্চলের কৃষকরা।

সদর উপজেলার চাষী আলাউদ্দিন বলেন, নতুন ধান কম দামে বাজারে বিক্রি করেছি, দাম তেমন পাইনি। বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করলে লোকসান কিছুটা হলেও কমতো।

কৃষকদের কাছে জানা গেছে, এক একর জমিতে ধান হয়েছে ৪২ মণ। তা বাজারে বিক্রি করে ২৫ হাজার টাকা পেয়েছে। কিন্তু খরচ হয়েছে ৩২-৩৩ হাজার টাকা। প্রথমে ধানের দাম না থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হয় চাষীদের। কৃষকরা অভিযোগ করেন, কৃষকদের কাছে যখন ধান থাকে তখন যদি সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিত সরকার তাহলে ধান চাষে লাভবান হতে পারতেন অনেকে।

আরো পড়ুন: বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১০ নারী পুলিশ সদস্যসহ আহত ২০

জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান রাজু জানান, বর্তমান বাজারে ধানের আমদানি কম এবং ধানের দামের সাথে চালের দামের সংগতি নেই। এক্ষেত্রে মিল মালিকদের কোনো কারসাজি নেই। মিলে যে পরিমাণ ধান থাকার কথা সেই পরিমানে ধান নেই। তাই চাল উত্পাদনে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। জেলায় বেশিরভাগ মিলারদের কাছে মজুদ চাল নেই বলেও তিনি জানান।

ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, সরকার এবার চাল সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। তালিকা শিগগিরই আমরা হাতে পাবো। বাজারে কৃষক এখন ধানের দাম ভাল পাচ্ছে। বর্তমান ধানের দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

ইত্তেফাক/এএম