দেশে যেভাবে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন হচ্ছে, তাতে করে একটি কঠোর আইন খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। যৌন হয়রানি থেকে নারীদের সুরক্ষা দিকে এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া ইতিমধ্যেই প্রণীত হয়েছে। তবে সরকারের উদ্যোগে অনেক আগেই এ ধরনের একটি আইন পাশ হওয়া দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের আইপিডি সম্মেলন কক্ষে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১৯’ হস্তান্তর সম্পর্কিত সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও যৌন হয়রানি থেকে নারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আমাদের দেশে এই সংক্রান্ত একটি আইন পাশ হওয়া উচিত। আমি জেনে আনন্দিত হয়েছি যে, ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া প্রণীত হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে অনেক আগেই এ ধরনের একটি আইন পাশ করার দরকার ছিল।
তিনি আরো বলেন, খসড়া বিলটি একটি কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। ককাসের পক্ষ থেকে মতামত পাওয়ার পর সবার সঙ্গে আলোচনা করে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য তিনি জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামকে ধন্যবাদ জানান এবং বিলটি আইন আকারে পাশ করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু এমপি বলেন, ‘নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তথাপিও নারী ও কন্যাশিশুরা বিভিন্ন নির্যাতন বিশেষ করে যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমি মনে করি, আমাদের আগামীর ভবিষ্যত্ কন্যাশিশুদের সুরক্ষার জন্য দ্রুতই ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, ২০১৯’ আইনটি পাশ হওয়া দরকার। কারণ নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস-এর কো-চেয়ারপারসন অ্যারোমা দত্ত এমপি বলেন, যৌন হয়রানি থেকে নারী ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত যুগোপযোগী ও সুচিন্তিত আইনের খসড়া প্রণীত হয়েছে। তবে আইনের মধ্যে যে জটিলতা থাকে তা এড়াতে খসড়া আইনটির আরো বিশ্লেষণ হওয়া দরকার। সভার শুরুতে প্রস্তাবিত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, ২০১৯ প্রণয়নের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করেন কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি। এরপর মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা এবং এনজিও প্রতিনিধিরা খসড়া আইনের ওপর তাদের মতামত তুলে ধরেন। সভা সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা। সূচনা বক্তব্য দেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি। সভাটি গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়।
