বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে নির্বাচন কমিশন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তদন্ত কমিটির সদস্যরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির একজন সদস্য বলেন, অল্পতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় ভবনটি রক্ষা পেয়েছে। ভবনের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে কী পরিমাণ ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা গণনা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) মাহবুব তালুকদার ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম।
কর্মকর্তারা জানান, কীভাবে ইসি ভবনে আগুন লেগেছে তা জানতে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। তবে প্রথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যেমে আগুন লাগতে পারে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর চূড়ান্তভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যাবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ধারণা করা হয় বৈদ্যুতিক তারের দিক থেকে আগুন ছড়িয়েছে। এ কারণে দেয়ালের তারগুলো পুড়ে গেছে। এসিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যাবলের বক্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ইভিএমের ব্যালট ইউনিট, মনিটর, কন্ট্রোল ইউনিটে আশঙ্কার তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ খুবই নগণ্য। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, যে রুমে আগুন লেগেছে সেখানে প্রায় এক হাজার সেট ইভিএম রয়েছে। এর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যা খুবই নগণ্য। নাশকতা কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। সামনের নির্বাচনগুলোতে ইভিএম ব্যবহারে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা—এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, রংপুরে উপনির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার চেষ্টা করব। আমরা সেই ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে রবিবার রাত ১১টার পর আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করে প্রায় দেড় ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ইসি।
