মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড, কাশ্মীরে হয়নি তাজিয়া মিছিল

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৬

ঈদে নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল হলেও আশুরায় তা আর হলো না। শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুন্নিরাও এবার তাজিয়া মিছিলে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সামগ্রিক পরিস্থিতি মাথায় স্থানীয় প্রশাসন তাজিয়া মিছিল বের করার অনুমতি দেয়নি। তাই আশুরার দিনেও কার্যত জনমানবশূন্য ছিল কাশ্মীরের রাস্তাঘাট।  

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর, মহররমের প্রস্তুতি হিসাবে রাস্তার ধারে কালো পতাকা টাঙানো হয়েছিল। কিন্তু, শোভাযাত্রার বদলে মঙ্গলবার পথঘাট জনশূন্যই থাকে। পরিবর্তে প্রতি পাঁচশো মিটার অন্তর দেখা গিয়েছে ব্যারিকেড। মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে আধা সামরিক বাহিনী।  

স্থানীয়দের অনেকের মতেই, নব্বইয়ের দশকের কঠিন সময় বা তার পরেও মহরমের দিন এমন পরিবেশ কাশ্মীরে দেখা যায়নি। বছরের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি অফিসার গুলাম হুসেন বলেন, ‘আমাদের ওষুধপত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে যেতেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন : ৮২ কেজি ওজনের বাঘা আইড়

উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই যে কোনও ধরনের জমায়েত বা শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মূল রাস্তাকে বাদ দিয়েই এলাকায় ছোট ছোট জমায়েতের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু, রবিবার সে সবের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। এর মধ্যেই নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো ও ছররা বন্দুক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। 

শ্রীনগর মিউনিসিপ্যাল কমিটির সদস্য তনভির পাঠান অভিযোগ করেন, ‘আমরা নিজের এলাকায় গলিতে মিছিল বার করেছিলাম। নিরাপত্তারক্ষীরা পাহারা দিচ্ছিলেন। তারপরই তারা টিয়ার গ্যাসের শেল ও ছররা ছোড়ে।’ 
 
সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করে কেন্দ্রের শাসন জারির পর এই প্রথম মহররম উপত্যকায়। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, মহররমের জমায়েত হলে তার সুযোগ নিয়ে উপত্যকায় গন্ডগোল বাধানো হতে পারে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তাই ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। যদিও, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেরই প্রশ্ন, অমরনাথ যাত্রায় নিরাপত্তা দিতে পারলে, এখানেই বা তা দেওয়া হবে না কেন?

১৯৮৯ সালের আগে কাশ্মীরে মহরমে বড়সড় জমায়েত হতো। কিন্তু, ওই সময়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বাড়তে থাকায় তার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। অবশ্য তার পরেও শ্রীনগর, বদগাম বা বারামুলা এলাকায় মহরম উপলক্ষে বড়সড় জমায়েত দেখা গিয়েছে। কিন্তু এ  বার অবশ্য সে ছবি দেখা যায়নি।

ইত্তেফাক/কেআই