নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তিন রোহিঙ্গা যুবকের পাসপোর্ট ইস্যু করার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাসপোর্ট যাচাইবাছাই করার (ভেরিফিকেশন) দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) দুই কর্মকর্তা এএসআই নুরুল হুদা ও আবুল কালামকে শোকজ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, জেলার সেনবাগ উপজেলার ঠিকানা ব্যবহার করে তিন রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। যে কর্মকর্তা ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে ছিলেন, যারা সার্টিফিকেট সৃজন এবং সত্যায়ন করেছেন প্রত্যেকের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এসবি কর্মকর্তা এএসআই নুরুল হুদা রোহিঙ্গা দুই ভাই মোহাম্মদ ইউসুফ ও মোহাম্মদ মুসা এবং এএসআই আবুল কালাম অপর রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আজিজের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন করেন। তাদেরকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার আরো জানান, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে এর তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেন্বর ঢাকা আসার পথে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী তিন রোহিঙ্গা যুবককে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের কাছে তারা স্বীকার করে দালালের মাধ্যমে নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট করায়। গ্রেপ্তারকৃত তিন জনের মধ্যে মোহাম্মদ ইউসুফ ও তার ছোটো ভাই মোহাম্মদ মুসার বাড়ি মিয়ানমারের মংডুর দুমবাইয়ে এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আইয়াজের বাড়ি মংডুর টালিপাড়ায়। তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর উখিয়ার খাইয়াংখালী হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাস করত।
এদিকে নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা জানান, জেলা ডিএসবি আবেদনপত্র যাচাইবাছাই করে রিপোর্ট দেওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। তিন রোহিঙ্গা যুবককে পাসপোর্ট প্রদানের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় তার অফিসের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
