ইলিশের দাম

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০৩

ইলিশের মৌসুম চলছে, ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। কিন্তু বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে কি ক্রেতা সন্তুষ্ট? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ই-মেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো

 

বর্তমানে বাজারে ইলিশের যথেষ্ট সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের কেনার ক্ষমতার বাইরে। এখানে অবশ্যই কোনো-না-কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে। সারা বছর মূল্য অনেক বেশি থাকে, তাই অনেকেই কিনতে পারে না। এ সময়ে তারা কিনে জাতীয় মাছের একটু স্বাদ নিতে চায়। কিন্তু তাও পারছে না। তাহলে বেশি উত্পাদন বা বেশি সরবরাহ সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। ইলিশ রপ্তানি হলে তা বন্ধ করে এ দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে।

কামাল হোসাইন

গ্রাম :জগন্নাথদী, পোস্ট :ব্যাসদী গাজনা, মধুখালী, ফরিদপুর।

 

ইলিশের মৌসুম চলছে, ধরা পড়ছে অনেক ইলিশ, এ কথাও সত্য। কিন্তু বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে অনেকের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। কারণ অনেক স্থানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সবাই মিলে নিজেদের দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করলে সমাজ থেকে অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা বেশির ভাগ কমে যাবে বলে আমরা মনে করি।

শিশির,

পিলখানা, ঢাকা।

মাছের রাজা ইলিশ। চকচকে রুপালি ইলিশ এখন বাজারে সয়লাব এ কথা বললে ভুল হবে না। শুধু বাজার নয়, পাড়া-মহল্লায় অলিগলিতেও এখন ইলিশ আর ইলিশ। তবে দাম তেমন কম নেই। অনেকেরই সাধ আছে, কিন্তু সাধ্য নেই। বাজার চড়া রয়েছে এই মাছের। অফিস থেকে ফেরার পথে হাতে করে নিয়ে বাসায় ফিরছেন এই সুস্বাদু ইলিশ মাছ। যেহেতু অনেকেই আবার লোভ সামলাতে না পেরে এ কাজটি করে ফেলছেন। ভাতে-মাছে বাঙালি। আর ইলিশ তো জাতীয় মাছ। বাড়িতে মাছ নিয়ে গিয়ে স্ত্রী নিজের হাতে রান্না করে স্ত্রী-মেয়েদের নিয়ে ডাইনিংয়ে বসে ইলিশের রকমারি রান্না কতই না মজা বটে। অথচ কিছুদিন আগেও ইলিশ ছিল সাধারণ মানুষের কাছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে বড় ইলিশ খুব কমই পাওয়া যেত। এখন ভ্রাম্যমাণ মাছ বিক্রেতাদের ঝুড়িতে দৃশ্যমান। এবার ইলিশের উত্পাদন বেড়েছে এ কথা সত্য। তবে এই উত্পাদন বৃদ্ধির ধারাকে ধরে রাখতে হবে।

সুলতানা জামান

 মানিকনগর, ঢাকা।

বাজারে যে দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তাতে আমি চরমভাবে অসন্তুষ্ট। অসন্তুষ্টির প্রধান কারণ তিনটি ১. চাষ করা দুর্গন্ধযুক্ত অন্য মাছ না কিনে সুস্বাদু ইলিশ চেনারও উপায় নেই অতিরিক্ত দামের জন্য। ২. মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র লোকজন যেহেতু বিত্তবানদের মতো চড়া দামে কিনতে পারে না। স্বভাবতই তাদের মন খারাপ হয়। ৩. যে উদ্দেশ্যে সরকার ইলিশের উত্পাদন বাড়াল মহাজন, রাঘব বোয়াল, ব্যবসায়ীদের কারণে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হলো না। দেশের অধিকাংশ জনগণ জাতীয় মাছের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছে না।

সাইফুদ্দিন

কাঁটাশুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

বাঙালির জাতীয় মাছ ইলিশ। এটা সবচেয়ে বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু মাছ। আর পদ্মার ইলিশের তো কোনো তুলনা নেই। এবার মৌসুম শুরু না হতেই বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ। এবার জেলেদের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে তেমনি দামেও ইলিশ ক্রয় করে খুশি ক্রেতারাও। মত্স্য বন্দরগুলোয় উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে। টানা ৬৫ দিন সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা মাছ ধরতে সাগরে যায়। স্বভাবতই জেলেরা খুশি এবার। আমরা চাই, মত্স্য সংরক্ষণের সুব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ জরুরি আইন।

পারভীন সুলতানা

মালিবাগ, ঢাকা।

ইলিশ মাছ এবার ব্যাপকভাবে ধরা পড়ার খবর দেশের মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক ঘটনা। তবে এ স্বস্তি যেন ট্রলারগুলোয় চাঁদাবাজির শিকার না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে। আমরা চাই, ইলিশ মাছের সুষ্ঠু সংরক্ষণ ও ব্যবস্থা। বরফের অভাবে ইলিশ যাতে নষ্ট না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার।

জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি ইলিশ শিকারিরা। চাঁদপুরে ইলিশের আমদানি বাড়ায় মাছের ঘাটগুলোতে কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় হতাশ ছিল আড়তদাররা। মাছের আড়তে ইলিশ আসতে শুরু করায় সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। মাছঘাটের বেশিরভাগ ইলিশ বরিশাল, ভোলা ও চরফ্যাশন থেকে আসা।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

 হাইমচর, চরভৈরবী।

ইলিশের মৌসুম চলছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ইলিশ ধরা বেশি পড়বে বলে আশা করছে অভিজ্ঞ জেলেরা। যেহেতু এ বছর দুই দফায় মাছ শিকার বন্ধ ছিল প্রজননের জন্য। যদিও যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে সন্তুষ্ট নয়। তবে ইলিশ চুরির বিষয়টিকে মাথায় রাখা একান্ত জরুরি।

মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ

 স্টেডিয়াম সড়ক, সদর, ফেনী।

আমরা বিজ্ঞাপনে শুনেছি—‘বাতির রাজা ফিলিপ্স মাছের রাজা ইলিশ’—কথাটি যথার্থই সত্য বটে। ভরা মৌসুমে ইলিশের সংবাদ পাচ্ছি, বাজারেও দেখছি। অনেক ইলিশ বাজারে। কিন্তু দাম তেমন সন্তুষ্টির মতো নয়। অত্যন্ত সুস্বাদু মজাদার এ মাছ বাঙালির ঘরে ঘরে প্রিয় হলেও সবার ভাগ্যে জুটছে না আজ। সুতরাং উত্পাদনকে বহাল রেখে দামের বিষয়টি মাথায় আনতে হবে।

বিপ্লব আলম

উর্দ্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা।

ইলিশের মৌসুম চলছে, ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। তবে বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে সেটাতে আমরা মোটেই সন্তুষ্ট নই। ইলিশের উত্পাদন বাড়লেও দামের বিষয়টি তেমন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেনি। ফলে আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এখনো সাধ্যের বাইরে রয়েছে। সুতরাং উত্পাদনের পাশাপাশি দামের বিষয়টি নির্ধারণ করতে হবে।

মো. আবুল কালাম আজাদ

সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ।

অর্থকরী পণ্যটি সঠিকভাবে তদারকির অভাবে দিনের দিন আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। অথচ একশ্রেণির কুচক্রী অসাধু মহল ব্যবসায়ী এতে সিন্ডিকেট তৈরি করে অবৈধভাবে আমাদের এ রুপালি ইলিশকে দেদারসে পাচার করে দিচ্ছে। ফলে আমরা উভয় দিক থেকে বঞ্চিত। ফলে, আমাদের ইলিশ ক্রয়ক্ষমতা থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। এর জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে তদারকির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ করা এখনো সম্ভব বলে আমি মনে করি। তা না হলে বর্তমানে যে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে পরবর্তীতে তা আরো জনগণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে যাবে। অপরদিকে ইলিশ ধরার মৌসুমে প্রজননে বেশিরভাগ সময় ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে হবে।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু), প্রধান উপদেষ্টা, নজরুল একাডেমি, হাউজিং এস্টেট, ২ নম্বর সেক্টর, রাজশাহী-৬২০২।

বর্তমান বাজারে এক কেজি সাইজের একটি ইলিশ এর দাম ১ হাজার ৪০০ টাকার ওপরে, যা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তো খেতে চায়। ইলিশের দামের জন্য পরিবারের কর্তাব্যক্তি সে চাহিদা মেটাতে পারছেন না। আমার মনে হয়, ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করা এবং চোরাই পথে অন্য দেশে পাচার বন্ধ করতে পারলে ইলিশের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে।

মো. মহিউদ্দিন

মোহাম্মদপুর, ঢাকা

ভরা মৌসুমেও কমছে না ইলিশের দাম, তাই ইলিশের দাম নিয়ে অস্বস্তিত রয়েছেন ক্রেতারা। টাটকা ইলিশের স্বাদ নিতে, মাছ কিনতে আসা অনেক ভোজনবিলাসীকে দামের কারণে ফিরে যেতে হয় রিক্ত হস্তে। যত বড়ো ইলিশ তত দাম বেশি। জাতীয় মাছ হিসেবে দাম নাগালের মধ্যেই থাকা উচিত, সেই সঙ্গে দেশের চাহিদা পূরণ না করে বিদেশে রপ্তানি না করাই উচিত বলে আমি মনে করি।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হকভিলা, মেরাদিয়া,

সিপাহীবাগ, ঢাকা।

শৈশবের বর্ষা মানেই ইলিশ ভাঁপা, সর্ষে ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, খিচুড়ির সঙ্গে ইলিশভাজা, আরো কত কী! কিন্তু এখনকার দিনে বর্ষার ফ্লপ শো চলে মনে হয়! সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাঙালির রসনাকেও কাঁদায় ইলিশ। বর্ষায় বাজার ভরে থাকার কথা ইলিশের, আর এখন দেখি মাঠ পুরাই ফাঁকা। ইলিশ নামটা শুনলেই বাঙালির পেটের ভেতর কেমন যেন আনচান করে ওঠে! ইলিশ বাঙালির কাছে আলাদা এক সেন্টিমেন্টও বটে। বর্ষা এলে বাঙালির পাতে ইলিশ না উঠলে খাওয়াটা ঠিক জমবে কি করে বলুন তো?

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

মাছে-ভাতে বাঙালি। আর আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। ইলিশ মাছ সুস্বাদু। ইলিশের মৌসুমে এবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। যদিও দাম তেমন কম নয়। মাছের ব্যাপক আমদানি এবার, বিশেষ করে বড়ো আকারের ইলিশ বেশি। পদ্মার ইলিশের চাহিদা বেশি সবার কাছে। সাগরের তুলনায় পদ্মার ইলিশের দাম একটু বেশি। সাগরের মাছ লম্বাটে হয়। স্বাদও একটু কম। অন্যদিকে পদ্মার ইলিশের প্রস্থ মোটা হয়। এই ইলিশের তেল হওয়ায় স্বাদ বেশি। বাঙালির ইলিশকে ধরে রাখতে হবে সংরক্ষণের মাধ্যমে।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ।

ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। ঝাঁকে ঝাঁকে জেলেদের জালে রূপালি ইলিশ ধরা পড়ছে। ইলিশের উত্পাদন বাড়ছে। সুস্বাদু মাছ ইলিশ এখনো মানুষের নাগালের বাইরেই থাকছে। ইলিশ মাছের মূল্য বেশি। অথচ এই ইলিশ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডে পাচার হয়ে যাচ্ছে। স্বাদ আর সুস্বাদে অতুলনীয় খাবারের জন্য এই অবস্থা। আগের দিনগুলোয় গ্রামগঞ্জে, হাটে-বাজারে বড়ো বড়ো ইলিশ মিলতো, এখন আর চোখে পড়ে না। দামও বেশি। সীমান্ত পেরিয়ে ইলিশ মাছের পাচার বন্ধ করা গেলে ইলিশ মাছের মূল্য কম হতো। তেমনি মানুষের চাহিদা মিটতো, ইলিশের স্বাদও পেতো মানুষ।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

স্বাদে ও সুস্বাদুতে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। বাঙালির অনেক পারিবারিক/ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই ইলিশের ব্যবহার রয়েছে। এবার ইলিশের উত্পাদন বাড়লেও সে অনুপাতে দাম কমেনি। ফলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সব পরিবারে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থেকে গেছে। তাই এই ইলিশ দেশের সব শ্রেণির মানুষের প্রয়োজনেই পাচার রোধ করতে হবে।

মো. হানিফ মিয়া

মনেশ্বর লেন, হাজারীবাগ, ঢাকা।