ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের জন্য বাংলাদেশের দলটা ছিল ১৩ সদস্যের। গতকাল ফ্লাড লাইটের আলোয় শের-ই-বাংলার সবুজ জমিনে বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে দেখা গেল অনেক ক্রিকেটার। দলের বাইরেও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ছিলেন অনুশীলনে।
লেগ স্পিনার মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি, পেস বোলার শুভাশীষ রায়, মেহেদী হাসান রানা, বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামও নেটে বোলিং করেছেন মুশফিকুর রহিম-আফিফ হোসেনদের। যদিও সন্ধ্যার পর বৃষ্টির কারণে অনুশীলনে বিরতি পড়েছিল।
আফগানিস্তানের কাছে টেস্টে হারের পর ক্রিকেটারদের মনোবলও বেশ তলানিতে নেমে গেছে। টেস্টে হারের ধকল ভুলে আজ থেকে শুরু হতে চলা টি-২০ সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় অনুশীলন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
গতকাল যেমন সন্ধ্যায় অনুশীলন থাকলেও দুপুরে মিরপুর স্টেডিয়ামের ইনডোরের নেটে ব্যাটিং করেছেন সাকিব আল হাসান। তার সঙ্গে ছিলেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও কম্পিউটার অন্যালিস্ট শ্রীভাসন। পরে দেশীয় কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অধীনে নেটে ব্যাটিং করেছেন মুশফিকুর রহিম। নিজেদের জায়গা থেকে ঘাটতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ক্রিকেটাররা।
সন্ধ্যার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও জানালেন, টি-২০ সিরিজে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে স্বাগতিকরা। কোচের বিশ্বাস, নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে হারাতে পারে বাংলাদেশ। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলগতভাবে সেরাটা দিতে চায় বাংলাদেশ।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মিরপুর স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে গতকাল রাসেল ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘আমরা এক ম্যাচ করে জিতে এগিয়ে যেতে চাই। টি-২০ ক্রিকেটে নির্দিষ্ট দিনে যে কোনো দল হারাতে পারে যে কোনো দলকে। কালকের (আজ) ম্যাচে জয়ের নিশ্চয়তা আমি দিতে পারব না। কিন্তু আমি যেটা বলতে পারি আমরা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটা দিব এটা নিশ্চিত।’
সাদা বল তথা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশকে বেশ অভিজ্ঞ দল বলেই উল্লেখ করেছেন রাসেল ডমিঙ্গো। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট দিনে যে কোনো দলকে হারাতে পারে। আমাদের কিছু বিশ্বমানের পারফরমার রয়েছে। দলটার অভিজ্ঞতার দিকে তাকান। গত বিশ্বকাপে (ওয়ানডে) বাংলাদেশ ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অভিজ্ঞ দল। তাই এখানে আমাদের দলে মানের ও অভিজ্ঞতার কোনো কমতি নেই। আমি মনে করি, আমরা যদি সামর্থ অনুযায়ী খেলতে পারি তাহলে আমাদের হারানো কঠিন হবে।’
ক্রিকেটের ক্ষুদে সংস্করণে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নেই। আগের ৯ বারের সাক্ষাতে পাঁচটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ৪টি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম রাসেল ডমিঙ্গো সমীহ করছেন জিম্বাবুয়েকে। যদিও দলটি নানাবিধ জটিলতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। এসব কঠিন সময়ে একটি দল একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশের হেড কোচ।
আজকের ম্যাচের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘যখনই কোনো দল সংকটে পড়ে তখন তারা সম্মিলিতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে। এসব অবস্থান একটা দলকে ধ্বংস করে দিতে পারে আবার একতাবদ্ধ করতে পারে। তারা আফ্রিকার অংশ, আমি দক্ষিণ আফ্রিকার। সন্দেহ নেই জিম্বাবুয়ে এখন সংগ্রাম করছে। এটা তাদের দলকে একতাবদ্ধ করবে সামনে এগিয়ে যেতে।’
