পায়রার ভাঙন অব্যাহত নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:১৭

পটুয়াখালীর দুমকিতে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বাড়িঘর। তীব্র স্রোতে ভাঙন দিনদিন বাড়ছে। নদীভাঙন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছে। তবে অধিকাংশ পরিবার কোথাও যেতে না পেরে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

বাহেরচরের বাসিন্দা জাকির হাওলাদার বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বহু কষ্টে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছি। আঙ্গারিয়ার ইউপি সদস্য রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, বাহেরচর গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ভাঙন না ঠেকালে ঐ ইউনিয়নের বহু ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির ফসল নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।

ভিটেমাটি নিয়ে নদীভাঙনের মুখে থাকা জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, আমরা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহযোগিতা চাই না। সরকারের কাছে একটাই দাবি—নদী শাসন করে আমাদের ভিটেমাটি রক্ষা করা হোক।

আঙ্গারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার বলেন, বিগত এক সপ্তাহে বাহেরচর গ্রামের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙছে, ভাঙনের কবলে পড়া প্রায় ৩০০ অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুমকি উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আশাকরি খুব শিগিগর সংশ্লিষ্ট মহল ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবেন।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, বাহেরচরের ভাঙন পরিদর্শনে লোক পাঠিয়েছি এবং দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি করা হবে।