হেগারবার্গের হাতে প্রথম ‘ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন’

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৯

গেল কয়েক বছরে নারী ফুটবলের উন্নতির দিকে তাকালে আপনি কিছু অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতা দেখবেন। বিশ্বকাপ, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নশিপ... এই পুরস্কার আসাটা সময়ের ব্যাপার ছিল

  নেয়ামত উল্লাহ

 

ফুটবলে নারী সমতা বিধান এবং সমান সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবারই প্রথম নারীদের বর্ষসেরার পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো জেতার সম্মান অর্জন করে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন অলিম্পিক লিঁওর নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আদা হেগারবার্গ।

গত মৌসুমটি দারুণ কাটিয়েছেন তিনি। ফরাসি দল লিঁওকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর নাম ভূমিকায় ছিলেন, ভলফসবুর্গের বিপক্ষে ফাইনালটিতে করেছিলেন একটি গোলও। এছাড়াও দলের ফরাসি লিগ শিরোপা জয়ে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। বছরজুড়ে এমন নৈপুণ্যই তাকে এনে দিয়েছে নারী ব্যালন ডি’অরের সম্মান। 

পুরস্কার গ্রহণ করার সময় শুভেচ্ছা বক্তব্যে নারীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার তাগিদ দেন হেগারবার্গ। লিঁও ফরোয়ার্ড বলেন, ‘প্লিজ! নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখো! আর হাল ছেড়ো না।’ নারীদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তনের মিছিলে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানান হেগারবার্গ। তিনি বলেন, ‘একসাথে আমরা পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবো।’

১৯৫৬ সাল থেকেই বিশ্বসেরা ফুটবলার নির্বাচনের কাজটি করে আসছে ফ্রান্স ফুটবল। কিন্তু তা কেবল সেরা পুরুষ ফুটবলার নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ বছর প্রথমবারের মতো পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় ‘ফ্রান্স ফুটবল’ নামক সাময়িকীটি। এমন সিদ্ধান্তের জন্য ফরাসি সাময়িকীটিকে ধন্যবাদ দেন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। আদা হেগারবার্গ জানান, ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের এমন পদক্ষেপ নারী ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। হেগারবার্গের ভাষায়, ‘এই পুরস্কারটি জেতার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমি ফ্রান্স ফুটবলকে একটা বড় ধন্যবাদ দিতে চাই। নারী ফুটবলের উন্নয়নের পথে এটি অনেক বড় একটি পদক্ষেপ রূপে কাজ করবে। আপনি যে শ্রমটা ঢেলে দেন, তা নারী ফুটবলে খুবই গুরুত্ব ব্যাপার হিসেবে কাজ করে।’

ইংল্যান্ড নারী দলের কোচ ফিল নেভিল মনে করেন, যেভাবে নারী ফুটবল উন্নত হচ্ছিলো, তাতে এমন পুরস্কার বহু আগেই পাওনা হয়ে গিয়েছিল। তবে তিনি মনে করেন, এমন স্বীকৃতি নারীদের আরও উন্নতি সাধনে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি গেল কয়েক বছরে নারী ফুটবলের উন্নতির দিকে তাকান, তাহলে কিছু অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতা দেখবেন। বিশ্বকাপ, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নশিপ... এই পুরস্কার আসাটা সময়ের ব্যাপার ছিল।’

ইংল্যান্ড কোচ আরও বলেন, ‘যখন আপনি ব্যালন ডি’অর জয়ীদের কথা ভাবেন, তাহলে আপনার চোখের সামনে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেহারা ভেসে উঠে। নারী-পুরুষ, মেয়ে-ছেলে নির্বিশেষে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য, তারা এক একজন আইকনিক ফিগার। এখন আপনি বিশ্বের সেরা নারী ফুটবলারের কথাও ভাবার সুযোগটাও পাবেন। তারা (বিজেতারা) এটা তাদের বাকি জীবনের জন্য মনে রাখবে এবং মানুষজন এখন তাদের দিকে বীরের সম্মান নিয়ে তাকাবে।’

ফ্রান্স ফুটবলের এই সম্মাননাকে ফিল দেখছেন নারী ফুটবল উন্নয়নের স্মারক হিসেবে। তিনি বলেন, ‘এভাবেই খেলাটির উন্নয়নে অংশ নেন আপনি এবং এটাই হচ্ছে এখানে, আর এটা অসাধারণ। আমরা এই পুরস্কারটিকে নারী ফুটবলের উন্নয়নের স্মারক হিসেবেও উদযাপন করতে পারি।’