পাবনায় ওসি প্রত্যাহার এসআই সাসপেন্ড

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২৩

পাবনায় গৃহবধূকে ধর্ষণের পর মামলা না নিয়ে থানায় ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জেলা মহিলা পরিষদ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরো দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলেন—আলী হোসেন ও সঞ্জু হোসেন। এ নিয়ে পাঁচ আসামির মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হলো।

জানা গেছে, সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই গ্রামের রাসেল হোসেন নামের এক যুবকের। গত ২৯ আগস্ট রাতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ডেকে নিয়ে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে রাসেল ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। কিন্তু মামলা নথিভুক্ত না করে বিষয়টি মীমাংসা করতে অভিযুক্ত ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে গৃহবধূকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে তদন্ত কমিটি গঠন এবং ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ।

পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা দায়ের ও অভিযুক্ত যুবক রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১১ সেপ্টেম্বর সকালে আরেক আসামি দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ঘণ্টুকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ওসিকে প্রত্যাহার ও এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তদন্ত কমিটি: বিকালে পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে পাবনা জেলা প্রশাসন এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মানববন্ধন: গৃহবধূ ধর্ষণের প্রতিবাদে সকালে প্রেসক্লাবের সামনে মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখা মানববন্ধন করে। বক্তারা বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিচার না করে ধর্ষকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে দেওয়া সামাজিক মীমাংসার নামে প্রহসন। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর সঙ্গে জড়িতদের সুষুম তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি পূরবী মৈত্র, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি, সুচিতা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন পারভীন প্রমুখ।