>> সিয়াম সারোয়ার জামিল
পূব আকাশে হেলে পড়েছে সূর্যটা। তবু রাজধানীর ইস্কাটনের নাদিরার মাঠ জমজমাট। মাইকে বাজছে গান—আমি বাংলার গান গাই। তারই তালে তালে ছোট একটা মঞ্চে রঙিন পোশাকে নাচছে একদল পথশিশু। তা দেখে দর্শকের মনেও ঢেউ লাগে। গানে গানে গলা মেলান তারাও।
গত ৭ ডিসেম্বর বিকেলে এমনই মোহনীয় দৃশ্য দেখা যায় সেখানে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে স্বপ্নালোড়ন নামের একটি সংগঠন। প্রায় ৪ বছরের বেশি সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে আসছে তারা। দুটো শাখায় সপ্তাহের ৬ দিনই পড়ানো হয় পথশিশুদের। প্রতিবছর সেই শিশুদের নিয়েই আয়োজন করা হয় বিজয়োত্সব।
এগিয়ে গিয়ে কথা হয় পথশিশু ফাতেমার সঙ্গে। জানাল, ‘সকালে আইসছি। ছবি আঁকছি। নাচছি। গান গাইছি। আগে কিচ্ছু পাইরতাম না। এখন পড়বার পারি। লিখবার পারি। পড়ালেখ্যা শেষ হইলে কাম করি। মায়ের চায়ের দোকানডায় যাই।’
কথা হয় আরেক পথশিশু পাভেলের সঙ্গে। কী করো জিজ্ঞেস করলে জানায়, ‘আই তো ফুল বেচি। মায়ের লগে পার্কে ঘুমাই। আপারা ডাক দিসে তাই পড়তে আসি এখানডায়। আইজ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান। খুব ভালো লাগছে। ওই আপুটা গান করেছে। ভালো লাগছে।’ বলেই ইঙ্গিত করল এক তরুণীর দিকে। পাশে গিয়ে জানা গেল তরুণীর নাম বিনীতা রহমান তৃণা। তিনি স্বপ্নালোড়নের সংগঠক।
কথা প্রসঙ্গে জানালেন, ‘শিশুদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি আমরা কাজ করি। স্বপ্নালোড়নের ২টি শিক্ষাকেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। তাদের সবাই বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনেকেই স্বপ্নালোড়নের শিক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে অন্য বড় স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। সেই শিশুদেরও পাশে থাকছি আমরা।’ কথা হয় স্বপ্নালোড়নের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম শাহাব সোহাগের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘পথশিশুদের ফুটপাতে শুয়ে থাকতে দেখে খারাপ লাগত। ওদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই কিছু একটা করার অভিপ্রায়ে ২০১৩ সাল থেকে বন্ধুরা মিলে কাজ করতে থাকি। ধীরে ধীরে একটা কাঠামো দাঁড় করি। ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বপ্নালোড়নের যাত্রা শুরু হয়।’
