সাভারে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সের কিশোররা। ইভটিজিং থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, মাদক বহন, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, এমনকি হত্যাকাণ্ডেও রয়েছে তাদের সম্পৃক্ততা। এলাকাভিত্তিক ছোটো-বড়ো গ্যাং তৈরি করে দলগতভাবে এসব অপরাধকর্ম করে বেড়াচ্ছে কিশোর সন্ত্রাসীরা। সাভার উপজেলায় ৫০টির অধিক কিশোর অপরাধী গ্যাংসহ তিন শতাধিক উচ্ছৃঙ্খল কিশোর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো সাভার আশুলিয়া অঞ্চল। এদের দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলার মানুষ।
উঠতি বয়সি এসব ‘মাস্তানদের’ পাশাপাশি সাভারে সন্ত্রাসী ও টপটেররদের দৌরাত্ম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সন্ত্রাসীর হাতে রয়েছে বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র। উপজেলায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিপূর্বে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে পুলিশসহ বেশ কয়েকটি আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা এসব সন্ত্রাসীর তালিকা প্রস্তুত করে। এদিকে রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুতের পর গ্রেফতারের ভয়ে বিশেষ অভিযানের আশঙ্কায় সন্ত্রাসী ও টপটেরররা রাজধানীর আশপাশ এলাকাকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভার উপজেলা এখন সন্ত্রাসীদের নিরাপদ অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ইতিপূর্বে সারাদেশে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও সাভারে তালিকাভুক্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও র্যাব-পুলিশের অভিযান তেমন উল্লেখ করার মতো নয়।
ইতিপূর্বে সাভার উপজেলার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও উঠতি মাস্তানদের একটি তালিকা পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির সন্ত্রাসীদের নাম এ তালিকায় স্থান পেয়েছে। উঠতি মাস্তানদের পাশাপাশি চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে এ তালিকায়। ইতিমধ্যে পূর্বের তালিকাকে হালনাগাদ করা হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
অভিজ্ঞ মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক তালিকা তৈরি ও হালনাগাদ করলেও সন্ত্রাসীরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। উপজেলার পাড়া মহল্লায় উঠতি মাস্তানদের উত্পাতে সাধারণ মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, এলাকার কথিত বড়ো ভাই অথবা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসেবে সক্রিয় থাকছে এসব উঠতি বয়সি মাস্তানরা। এলাকাভিত্তিক গড়ে তোলা হচ্ছে ছোটো-বড়ো অপরাধী গ্যাং। তারা ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি থেকে শুরু করে জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই-রাহাজানির সঙ্গে। তাদের অনেকের কাছে রয়েছে ধারালো অস্ত্র থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক পিস্তল ও রিভলবার। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও বিশেষ অভিযান চলছে।
