বেহাল দেশের বৃহৎ পর্যটন নগরীর সড়কগুলো

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৫৭

কক্সবাজার পৌর শহরের প্রধান সড়কসহ অর্ধশত উপসড়ক খানাখন্দকে ভরে গেছে। চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীসহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে  ইজিবাইক, রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন গুলো। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরণের অর্ধ সহস্রাধিক যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করায় এ অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে করা সংস্কারে বিটুমিন, মানহীন ইট-কংক্রিট দিয়ে কোনো মতে দায়সাড়া সংস্কারের সপ্তাহ পার না হতেই আগের অবস্থায় ফিরছে সড়ক গুলো। 

সরেজমিনে, বাস টার্মিনাল হয়ে পৌর ভবনের থানা রাস্তার মাথা পর্যন্ত এলাকায় অধিকাংশ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় অসংখ্য গর্ত। এর মধ্যে আলির জাঁহাল মসজিদ এলাকায় কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিনের বাড়ির সামনে, রুমালিয়ারছরা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন স্থান হতে তারাবনিয়ারছরা পর্যন্ত, কালুর দোকান বাজার এলাকা, বার্মিজ মার্কেট এলাকায় জলাশয়ের মত বেশ কয়েকটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে ১০ থেকে ২০ গজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য নিয়ে এসব গর্ত বিস্তৃত। 

এছাড়াও উপ-সড়কের মধ্যে পিটিস্কুল দক্ষিণ রুমালিয়ারছরা, উত্তর তারাবনিয়ারছরা, খুরুশকুল রাস্তার মাতা সড়ক, কালুরদোকান-পাহাড়তলী সড়ক, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, সরকারি বালিকা ও বালক উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, চাউলবাজার সড়ক, বড়বাজার মসজিদ সড়ক, আইবিপি রোড়, বিকে পাল সড়ক, খানাকামসজিদ রোড, পানবাজার সড়কসহ আরও কয়েক ডজন উপ-সড়কের অবস্থা চরম নাজুক। আরও নাজুক অবস্থা সার্কিট হাউস সড়কটির। এখানেও হিলডাউন সার্কিট হাউসের একটু পশ্চিমে বিশাল অংশ জলাশয়ে পরিণত হয়ে আছে। 

ইজিবাইক চালক নুরুল আমিন, আবু তাহের, রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, গত ৭-৮ দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে গর্তগুলো জলাশয়ের মতই আছে। এসব অতিক্রম করতে গিয়ে শতাধিক গাড়ির মোটর নষ্ট হয়েছে। একেকটি মোটরের দাম ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। গর্তের পর গর্ত থাকায় ঢেউয়ের তালে চলতে গিয়ে গাড়ির জয়েন্ট খুলে গেছে। নষ্ট হয়েছে অনেক যন্ত্রাংশ। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়া ১০ টাকার ভাড়ায় ২০ টাকা করে নিতে হচ্ছে। 

জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান সড়কটি সড়ক ও জনপদের (সওজ) ছিল। কিন্তু সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নয়নের আওতায় আনতে বিগত কয়েক বছর ধরে চিঠি চালাচালির পর ২০১৮ সাল হতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সড়কটি প্রশস্তকরণে দেওয়া প্রকল্প চূড়ান্ত না হওয়ায় সড়কে হাত দিতে পারেনি। আর সড়কটি কউকের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সওজ বিভাগ আর রক্ষণাবেক্ষণ করেনি। ফলে কয়েক বছর সড়কটি অভিভাবকহীন হয়ে স্থায়ী সংস্কার হয়নি। 

আরও পড়ুন: ভারত থেকে আসছেনা, বাড়তে পারে পেঁয়াজের দাম

কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও প্রধান ও উপ-সড়কগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। কিন্তু এখানে যানবাহন চলাচল করে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি। ফলে সংস্কার করা হলেও এটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টিকছে না। শহরের ভেতর খানাখন্দকে ভরে যাওয়া বেশকিছু উপ-সড়ক সংস্কারে ইতিমধ্যে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত থামলেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার সরবরাহ করা হবে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে সড়কটি কউক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। গত দুই মাসে সড়কটি বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্নভাবে অন্তত পাঁচবার বার সংস্কার করা হয়েছে। যান চলাচলের চাপে ও টানা বৃষ্টিপাতে আবারও পুরো সড়ক জুড়ে মারাত্মক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণে একনেকে অনুমোদন হওয়ায় প্রকল্পের কার্যাদেশ অতি শীগগিরই পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। কার্যাদেশ আসার আগেই যথা সম্ভব মেরামত করে সড়কটি যান ও জন চলাচল উপযোগী করা হবে।

ইত্তেফাক/অনি