মো. জাহানুর ইসলাম
২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে এসডিসি-এর কার্যক্রম শুরু। এখানে লক্ষ্যমাত্রা আছে ১৭টি। টার্গেট আছে ১৬৯টি। বাংলাদেশ এমডিজিতে (মিলেনিয়াম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) সাফল্য অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসডিজিতেও সাফল্য অর্জন করবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, লিঙ্গবৈষম্য, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এসব ক্ষেত্রে কাজ করেছে। এসডিজির বিষয়গুলো সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এসডিজির সাফল্য অর্জন করতে হবে।
জাতিসংঘের ঘোষিত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে মানুষকে সচেতন করা খুবই প্রয়োজন। কেননা সবাই সচেতন না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করা, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, বৈষম্য দূর করা ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। এসডিজির সকল লক্ষ্য অর্জন করতে হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এমডিজি ছিল সহায়তানির্ভর। সেজন্য বাংলাদেশ ছাড়া অনেক দেশই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো খুবই দর্শনভিত্তিক। এসডিজিতে মানুষের স্বাধীনতা, সাম্য ও মানবাধিকারের কথা বলা হয়েছে। আছে দেশ ও দেশের অভ্যন্তরে মানুষে মানুষে সাম্য, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও সহমর্মিতার কথা। তাই কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে এগিয়ে যেতে হবে। এসডিজিতে সবকিছু বিস্তারিত বলা আছে। এটি বাস্তবায়নে সবার সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। রাষ্ট্রেরও বড় ধরনের অঙ্গীকার থাকতে হবে। বাংলাদেশের সে অঙ্গীকার আছে।
এসডিজিতে দারিদ্র্যের বিষয়টি সব সময় গুরুত্ব পেয়েছে। এমডিজিতেও এটা ছিল। তবে এবার অতিদারিদ্র্যসহ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের কথা বলা হয়েছে। কারো সহায়তায় নয়, নিজেদের শক্তিতে এসডিজির কাজগুলো করতে হবে। জনগণ এখন আর কেবল উপকারভোগী নয়। তারা দেশের অংশীদার। যা কিছু করতে হবে, তাদের সম্পৃক্ত করে করতে হবে। দেশে এখন প্রায় পাঁচ কোটি যুবক। এই যুবকদের জন্য বিনিয়োগ করা এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। এসডিজি অর্জন করতে হলে যুবকদের গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিবছর তরুণদের একটি অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। তরুণ-তরুণীরা কোনোভাবেই বেকার না থাকে এ বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদেরকে কর্মক্ষম হিসাবে তৈরি করতে হবে।
আমাদের অনেক অর্জন আছে। আমরা সমস্যার কথা বলতে বলতে অর্জনের কথা ভুলে যাই। এসডিজিতে ১৭টি লক্ষ্য। ১৬৯টি টার্গেট। এটি একটি বিশাল ক্ষেত্র। এটা অর্জন করতে পারলে যেকোনো দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমাদের একটা সমস্যা হলো, আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সম্পদের পরিমাণ কমছে। আমাদের গ্যাস, পানি ও পর্যাপ্ত বিদ্যুতের সংকট রয়েছে। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে, দেশে দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। আর নগর গড়ে উঠছে অপরিকল্পিতভাবে। ফলে নগরে বৈষম্য ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের সুযোগ সবাই পাইনি। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়েছে। কিন্তু সামাজিক ক্ষমতায়ন তেমনভাবে হয়নি।
এসডিজি বাস্তবায়নের সময় ১৫ বছর। অর্থাত্ আমরা যা অর্জন করতে চাই, তা এ সময়ের মধ্যেই অর্জন করতে হবে। আমরা এমডিজি যেভাবে অর্জন করেছি, সেভাবেই এসডিজি অর্জন করা সম্ভব। তবে হ্যাঁ এসডিজিতে আমাদের অনেক বেশি কাজ করতে হবে। এটা কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব হবে না। এর সঙ্গে সবাইকে যুক্ত হতে হবে।
একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণ-বঞ্চনাহীন দেশ গড়ে তোলা ছিল আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম চেতনা। সেই চেতনারই পরিপূরক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), যাতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল, বিশ্বের সবচে’ দরিদ্রদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, পৃথিবীকে সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার। তাই এসডিজি বাস্তবায়ন করা গেলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে, বাস্তবায়ন হবে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের চেতনা। আসুন, এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সবাই ভূমিকা পালন করি।
n লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
