প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুলে বানিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৩৬

ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি এনজিও সংস্থা নামে-বেনামে এমপিও ভুক্তির আশ্বাস দিয়ে গড়ে তুলেছে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল। এক শ্রেণির মানুষ স্কুল গুলো নিয়ে নেমেছে নিয়োগ বাণিজ্যে। উপজেলায় গড়ে উঠেছে এ ধরণের সাইন বোর্ড সর্বস্ব প্রায় দেড় ডজন স্কুল। 
 
জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় দেড় ডজন প্রতিবন্ধী বা অটিস্টিক স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ স্কুলগুলোতে ম্যানেজিং কমিটি তৈরি করে মাধ্যমিক স্কুলের প্যাটার্নে ২০/২২ জন করে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ প্রাপ্তদের কাছ থেকে ডোনেশন হিসেবে নেওয়া হচ্ছে ৪-৫ লাখ টাকা। স্কুলগুলোতে খাতা কলমে দেখানো হচ্ছে একশর বেশি শিক্ষার্থী। তবে উপজেলায় সমাজেসবা অধিদপ্তরের তথ্য মতে, অটিস্টিক শিশু আছে মাত্র ২৫ জন। 

উপজেলার নাটিমা বাজারে আর ইউ এন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবুল হোসেন মেমোরিয়াল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ঢাকার মোহাম্মদপুরের রাম ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের একটি বে-সরকারী সংস্থা তাদের পরামর্শক হিসেবে সহযোগিতা করছে। তাছাড়া ওই সংস্থাটি স্কুল এমপিও ভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তারা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক, অফিস সহকারী, কম্পিউটার, আয়া, নৈশ প্রহরী, দপ্তরি ও গাড়ি চালক ২ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সকলের ডোনেশনে জমি ক্রয় ও ঘর তৈরি করা হয়েছে। 
  
এ বিষয়ে হুদা দুর্গাপুর প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুলের সভাপতি আমির হোসেন মেম্বারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তাদের স্কুলে ৬০ জন প্রতিবন্ধী শিশু ভর্তি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ ৬ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডোনেশনের টাকার মধ্যে ১১ লাখ টাকা দিয়ে ২০ শতক জমি কেনা হয়েছে এবং বাকি টাকা স্কুলের উন্নয়নে খরচ করা হচ্ছে। একটি এনজিও সংস্থার প্রতিনিধি শিক্ষকদের একদিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: কাঁচপুরে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৩০

মহেশপুরে এইভাবেই চলছে প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে রমরমা বাণিজ্য। এ বিষয়ে মহেশপুর মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, এ সম্পর্কে তাদের কিছু জানা নেই।
 
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জুলফিকার আলী জানান, শুনছি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। কিছু স্কুল থেকে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা না থাকায় তারা এ সকল প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এ সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা সাধারণ ডিগ্রীধারী। এদের অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধী বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নেই। 

ইত্তেফাক/অনি