কাল থেকে খোয়াই নদীতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫১

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন খোয়াই নদীতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে উদ্যোগ নিয়েছে। শহরবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর আগামীকাল সোমবার শুরু হচ্ছে এই উচ্ছেদ অভিযান। এদিকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন হবিগঞ্জে ছয়শজন নদী দখলকারীর নামের তালিকা করেছে। সেই তালিকা উন্মুক্ত স্থানে টানিয়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শহরের শায়েস্তানগর ও মাহমুদাবাদ এলাকায় পুরাতন খোয়াই নদীর জায়গা চিহ্নিত ও মাপজোক করা হয়েছে। আমরা কোনো তালিকা করিনি। তবে উচ্ছেদ অভিযান দ্রুত বাস্তবায়ন করার কাজ সম্পন্ন করে যাচ্ছি।

বাপা জেলা সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, নদী মাপজোকের পাশাপাশি যেন স্থায়ী সীমানা পিলার দেওয়া হয়। নদীর পুরো অংশ উদ্ধার করে অবৈধ দখলদারদের আইনের আওতায় আনা উচিত। 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল জানান, পুরনো খোয়াই নদীটি উদ্ধারের দাবি হবিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের। কিন্তু বিভিন্ন সময় শহরবাসী আন্দোলন সংগ্রাম করলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সেটি হয়ে ওঠেনি। এবার প্রশাসন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। নদীটি উদ্ধারের মাধ্যমে জেলা শহরের চিত্র পাল্টে যেতে পারে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যেন নদীর পুরো অংশটিই উদ্ধার করা হয়। এখানে যেন কাউকেই ছাড় দেওয়া না হয়। 

এ ব্যাপারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য আলাউদ্দিন জানান, চিহ্নিত অবৈধ নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সব জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তারাই এসব দখলদারের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

তালিকায় দেখা যায়, সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে ৬৯৬ জন, মৌলভীবাজারে ৪৬৮, সিলেটে ২৪৪ ও হবিগঞ্জে ৬০০ জনের নাম রয়েছে। প্রতি জেলায় দখলদারদের নাম ঠিকানা উন্মুক্ত স্থানে টানিয়ে দেওয়া হবে।

সরেজমিনে, হবিগঞ্জ জেলা শহরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে ১৯৭৬ সাল থেকে দুই দফায় মাছুলিয়া থেকে কামড়াপুর পর্যন্ত খোয়াই নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। ১৯৭৬-৭৭ সালে মাছুলিয়া থেকে রামপুর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এবং ১৯৭৮-৭৯ সালে রামপুর থেকে কামড়াপুর গরুর বাজার পর্যন্ত আরও দুই কিলোমিটার গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। 

এরপর থেকে নদীর পুরনো অংশটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতা, সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, আইনজীবীসহ নানা পেশার মানুষ নদীর পুরনো অংশটি দখলে নিতে থাকেন। এক সময় নদী অস্তিত্ব হারিয়ে কোথাও খাল, আবার কোথাও ড্রেনে পরিণত হয়।
 
এদিকে উচ্ছেদের খবর পেয়ে অনেক স্থান থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন দখলদাররা। অপরদিকে উচ্ছেদ অভিযান সম্পর্কে অবহিত করতে রবিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ।

আরও পড়ুন: মিয়ানমারের সিমে ইন্টারনেট চালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে খোয়াই রিভার সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়নের স্ক্যাচম্যাপ তৈরি করেছেন। 

প্রাথমিক পর্যায়ে সদর হাসপাতাল থেকে নাতিরাবাদ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ৩১৫ মিটার পুরাতন খোয়াই নদীকে সংস্কার করে নান্দনিক করা হবে। অনেকটা ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্পের আদলে এটি করা হবে। নদীর দুপাড় উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ, দুই তীরে রাস্তা, ৫টি ব্রিজ নির্মাণ ও গাছ লাগানো হবে। পরবর্তীতে হবিগঞ্জ পৌরসভা সেখানে পার্ক ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা করবে। এ প্রকল্পের আওতায় পুরাতন খোয়াই নদীর দুধারে প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, ওয়াটার পিউরিফিকেশন পাম্প স্থাপন, পর্যটকদের জন্য বোটিং ব্যবস্থা, এলইডি সড়কবাতি স্থাপন ও শিশুদের জন্য কিডস কর্নার করা হবে।

ইত্তেফাক/অনি