শেয়ারবাজার

দর পতনে সপ্তাহ শুরু

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৯

গতকাল রবিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। এ নিয়ে টানা দুই কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হলো। তবে গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১৯৫টি। ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুটি মূল্য সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫১৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

টাকার অংকে গতকাল ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাডভেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালের ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।

লেনদেনে এরপর রয়েছে-ওয়াটা কেমিক্যাল, ফার্মা এইড, ড্রাগন সোয়েটার, কাট্টালি টেক্সটাইল, ন্যাশনাল টি, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও জেএমআই সিরিঞ্জ।

গতকাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএসসিএক্স ৪২ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৮৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৫টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে পরিস্থিতি কী হয় সে দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা। আবার বছর শেষ হওয়ার সময়ও নগদ টাকা বাজার থেকে উঠে যাওয়ায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি বাজারে গতি ফেরানোর একাধিক উদ্যোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইসিবির একার পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। অবশ্য বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আস্থা ও সুশাসনের অভাবেই বর্তমান বাজারে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সবাই। মুনাফার চেয়ে বিনিয়োগ সুরক্ষাই মূল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।