উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের ধারাবাহিকতা জরুরি :পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০০

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, গত ১০ বছরে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। এদেশের  প্রবৃদ্ধি এখন ৭ শতাংশের বেশি। রপ্তানি আয়, কৃষি উত্পাদন, প্রবাসী আয় এবং বিনিয়োগ বেড়েছে। শিল্প ও সেবা ব্যাপক হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ হয়েছে। দারিদ্র্যের হার কমেছে। ২০২১ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা জরুরি। গতকাল শেরে বাংলানগর এনইসি সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।  এসময় কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেমে থাকে না। এক সরকারের কাজ অন্য সরকার ভালোভাবে বাস্তবায়ন করে। কিন্তু আমাদের দেশে এর উল্টো হয়ে থাকে। এদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আগের সরকারের উন্নয়ন কাজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, সকল খাতেই বর্তমান সরকার উন্নয়ন রোল মডেল। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি  করা। উন্নয়নের এ ধারা  অব্যাহত থাকলে  ২০৩০ সালে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না।

ব্যাংকিংখাত দুরবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে সরকারের নীতিগত ভুল ছিল না। তবে এখাতের কিছু বিষয়ে দুর্বলতা ছিল। একারণে আর্থিকখাতের সমস্যা হয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক সংস্কার দরকার। ব্যাংকিং খাত ছাড়াও আগামীতে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী খাতগুলোকে ঢেলে সাজানো হবে বা সংস্কার করা হবে।

 গতকাল এ সংবাদ সম্মেলনে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে গত পাঁচ মাসে এ যাবত্কালের সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ সময়ে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা বা ২০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে মোট এডিপি বরাদ্দের ২০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হলেও টাকা অংকে ব্যয় হয়েছিল ৩২ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ২৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বা ১৯ শতাংশ।

তিনি জানান, নির্বাচনের বছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অনেক বেশি প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে চলতি বছরের এডিপিতে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। এছাড়া আমাদের অর্থনীতি আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। প্রকল্প বাস্তবায়নের বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা কমেছে। একারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না।

মন্ত্রী আরও জানান, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের সময় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এডিপির অর্থ ব্যয় হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত অর্থবছরে এডিপিতে ব্যয় হয়েছিল এক লাখ ৪৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। এতে দেখা যায় গত ১০ বছরে এডিপিতে অর্থ ব্যয় বেড়েছে ৮ গুণ।