নিত্যনূতন কৌশলে বন্ড কারসাজি

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২১

বন্ড সুবিধা লইয়া নানারকম অনিয়ম ও কারসাজির খবর সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছে। ইহাতে এনবিআরের অসহায়ত্বও ফুটিয়া উঠিয়াছে। কোনক্রমেই যেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর এই দৌরাত্ম্য ও কারসাজি বন্ধ করা যাইতেছে না। অথচ বন্ডের সুবিধা প্রদান করা হইয়াছিল দেশের রপ্তানিমুখী খাতকে বেগবান করিতে। বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইনের আওতায় এই খাতকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ বা বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। ইহাতে কোনো শুল্ক ছাড়াই কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পাইয়াছে দেশের রপ্তানি খাত। শর্ত ইহাই যে, কাঁচামালে তৈরি পণ্য শতভাগ রপ্তানি করিতে হইবে। এখন সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরাই নিত্যনূতন কৌশল ব্যবহার করিয়া তাহাদের কালোবাজারি অব্যাহত রাখিয়া এই সুবিধার অপব্যবহার করিতেছে। সম্প্রতি এমনই এক সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে দৈনিক ইত্তেফাকে। সংবাদ অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ কিংবা কারখানা প্রাঙ্গণ হইতে মালামাল না দিয়া অন্য কোনো স্থান হইতে এই সকল মালামাল বিক্রয়ের জন্য সরবরাহ করা হইতেছে। সরবরাহকারী বা বন্ডারের পরিচয় গোপন রাখিতে কোনো বিল অব এন্ট্রি বা চালানপত্র পাওয়া যাইতেছে না। যে ক্রেতার নিকট ঐ মালামাল সরবরাহ করা হইবে, বহনকারী তাহার নাম-ঠিকানাও জানে না বা গোপন রাখে। ফলে এই সকল পণ্য পরিবহনকালে রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট টিমের হাতে ধরা পড়িলে গাড়িতে মালামাল ছাড়া আর কোনো প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে না। এইক্ষেত্রে চালক, হেলপারকে আটক করা এবং ট্রাকসহ ঐ মালামাল আটকাইয়া রাখিয়া দেওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকিতেছে না। স্থান সংকুলানের অভাবে এই সকল মালামালসহ পরিবহন বেশি দিন আটকাইয়া রাখাও সম্ভব হইতেছে না। ফলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা করিয়া ঐ সকল মালামাল ছাড়াইয়া দিতে হইতেছে। ইহার ফলে মূল দুষ্কৃতকারী ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকিয়া যাইতেছে। ঐ সকল বন্ডারের বন্ড-সুবিধার লাইসেন্স বাতিল করা, আমদানি স্থগিত করা বা ব্যবসা সাময়িক বন্ধ করিয়া দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হইতেছে না। অথচ ইহার পূর্বে বন্ডারের পরিচয় ও কারখানার ঠিকানা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হইত। ফলে সেইক্ষেত্রে ঐ বন্ডারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ লওয়া যাইত। এনবিআরকে এই নূতন কৌশল মোকাবিলায় পদক্ষেপ লইতে হইবে। কারণ এমনিতেই বন্ডেড সুবিধার কারণে সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ছাড়িয়া দিতে হইতেছে। এক হিসাবে এই সুবিধার অপব্যবহার করিয়া এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বছরে যে পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দিতেছেন তাহার পরিমাণ ৫২ হাজার কোটি টাকা।

বন্ড সুবিধার নিয়মমাফিক ব্যবহার করিয়া দেশের রপ্তানিমুখী খাতকে সমৃদ্ধ করা এককথা আর ইহার অপব্যবহার করিয়া দেশেকে মূল্যবান রাজস্ব হইতে বঞ্চিত করা ভিন্ন কথা । যাহারা নানা কৌশলে কারসাজি করিয়া এই অপকর্মে লিপ্ত তাহাদের বিরুদ্ধে নিঃসন্দেহে কঠোর হইতে হইবে।