ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রস্তাবে তোলপাড়

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০০

হিন্দিকে ভারতের জাতীয় ভাষা

 এনডিটিভি

ইত্তেফাক ডেস্ক

ভারতে হিন্দিকে জাতীয় ভাষা করা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রস্তাব নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণাটকের দলীয় মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে পশ্চিমবাংলার বিশিষ্টজনেরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। প্রথম দিনেই বিরোধিতা করে টুইট করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা বলেছেন, ভাষা নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিজেপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে কংগ্রেসসহ বিরোধী দল অমিত শাহের বিরোধিতা করেন। পশ্চিমবাংলার ৫০ বিশিষ্ট ব্যক্তি রাজ্যের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন, সমস্ত ভাষাকে সম্মান করার এবং কোনো একটিকে চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে। গত শনিবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের জন্য একটি সাধারণ ভাষা হিসেবে হিন্দির নাম প্রস্তাব করেন। তার বক্তব্য ছিল, হিন্দিই দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি ব্যবহূত ভাষা। এই ভাষা সকলকে এক করতে সাহায্য করবে। এরই প্রতিবাদে গতকাল ফেসবুক পোস্টে তারা সকলকে অনুরোধ করলেন বাংলা ভাষাকে তাদের জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনো প্রয়াসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে। এই ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন কবি সুবোধ সরকার, কবি-গদ্যকার বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, আবৃত্তিকার ঊর্মিমালা বসু ও জগন্নাথ বসু, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য।

ঐ পোস্টে কৌশলে একটি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করার পাশাপাশি জানানো হয়, অদূর ভবিষ্যতে একদিন এমনও আসতে পারে, যেদিন আমাদের মাতৃভাষা, আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষাকে বিপন্ন হতে হবে। সুবোধ সরকার অন্য একটি স্টেটাসে জানান, হিন্দি ভাষাকে আমি সম্মান করি। কিন্তু একইসঙ্গে কন্নড়, মালয়ালি, মারাঠি, কোঙ্কনি এবং দেশে ব্যবহূত অন্য সমস্ত ভাষাকেও সম্মান করি। কোনো ভাষা বড়ো বা ছোটো হয় না। ভারত বহু ভাষার দেশ। কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে, মাতৃভাষা একজন মানুষের আসল রেশন কার্ড।