সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে :হাইকোর্ট

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২১

রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার বদলে ফেলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ৪৫ দিনের মধ্যে এ ঘটনার তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়। আদালত বলেছে, একজন ওসির বিরুদ্ধে যদি  এ ধরনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

গত ২৪ এপ্রিল পুঠিয়া সড়ক পরিবহন মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে নুরুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান পটল সাধরণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে পটলকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। ঐ ফল বাতিল চেয়ে নুরুল ইসলামসহ তিন জন রাজশাহী আদালতে মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, নুরুল ইসলাম ৬০২ ভোট ও পটল ৫২০ ভোট পান। কিন্তু ঐ ফল পালটে পটলকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই মামলা-সংক্রান্ত বিরোধে গত ১০ জুন নিখোঁজ হন নুরুল ইসলাম। পরদিন ‘এসএস ব্রিক ফিল্ড’ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে নিগার সুলতানা থানায় এজাহার দাখিল করেন। ঐ এজাহারে পটলসহ আট জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া নির্বাচনে ফল পালটে দেওয়ার সঙ্গে ওসি সাকিলের সম্পৃক্ততা আছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওসির সম্পৃক্ততার বিষয়টি বাদ দিয়ে এজাহার সংশোধন করতে বলা হয়। পরে ওসির বিষয়টি বাদ দিয়ে এজাহারটি করা হয়। পাশাপাশি সাদা কাগজে পুলিশ বাদীর স্বাক্ষর নিয়ে রাখে বলে অভিযোগ করে পরিবার। পরবর্তীকালে তদন্তের অগ্রগতি বা কোনো তত্পরতা না দেখে নিহতের স্ত্রী সাজেদা বেগম আদালতে নালিশি মামলা করেন। মামলায় আব্দুর রহমান পটলসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তখন থানা থেকে নিগার সুলতানার স্বাক্ষর করা একটি এজাহার উপস্থাপন করে থানার পুলিশ। তাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি দেখানো হয়। ঐ এজাহারে সন্দেহজনক হিসেবে পাঁচ জনের নাম বলা হয়।