পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে এফবিআইয়ের সাহায্য নেওয়া হবে --------দুদক চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:৪৫

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ও এফবিআইয়ের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। এখন বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে এফবিআইয়ের সহযোগিতা নিতে চায় দুদক। এ লক্ষ্যে কমিশন এফবিআইয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল সোমবার দুদক কার্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের আবাসিক আইন উপদেষ্টা এরিক অপেঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান অপেঙ্গাকে বলেন, কমিশন প্রত্যাশা করে, মানিলন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম, আর্থিক লেনদেন তদন্তের ক্ষেত্রে ফরেনসিক অ্যানালাইসিস, ট্রেড বেইজড মানিলন্ডারিং, অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল, সম্পদ পুনরুদ্ধার ( স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি), তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত আর্থিক ক্রাইম, মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স, তথ্য বিনিময়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বিকশিত হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত দুর্নীতি সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অপরাধের মিল রয়েছে, সেসব বিষয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ মানেই বিদেশে যেতে হবে কমিশন এমনটা মনে করে না। প্রয়োজনে এসব বিষয়ে এফবিআই অথবা জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের প্রথিতযশা রিসোর্স পারসনগণ বাংলাদেশে এসে কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। অথবা আঞ্চলিক পর্যায়ে যেমন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা ইন্দোনেশিয়ায় সমন্বিতভাবে এসব প্রশিক্ষণ হতে পারে। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কমিশন সব সময়ই ভ্যালু ফর মানির বিষয়টি বিবেচনা করে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের অর্থ পাচারের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ট্রেড বেইজড মানিলন্ডারিং। এ জাতীয় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবিড় সমন্বয়ের প্রয়োজন। তাই কমিশন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে অভিপ্রায় ব্যক্ত করে পত্র দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কর্মকৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থ পাচারের লাগাম টেনে ধরা  যেতে পারে।

এরিক অপেঙ্গা দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, প্রতিরোধ অণুবিভাগের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, আইসিটি ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম সোহেল প্রমুখ।