চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পারিবারিকভাবে সোহেল রানা নামে এক যুবককে বিয়ে করেন হাসি আক্তার (২৪)। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মাস পরেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দেয় হাসির। ফলে বিয়ের মাত্র চার মাস পরেই বিচ্ছেদ ঘটাতে বাধ্য হন তিনি। পরে জীবনের তাগিদে একটি এনজিওতে চাকরি নিয়ে ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আমিনবাজারে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। এরপরেও পিছু ছাড়েননি সাবেক স্বামী সোহেল রানা। টাকার জন্য হাসিকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। হাসি টাকা না দেওয়ায় গত ১ মে হাসির আমিনবাজারের বাসায় ঢুকে তাকে পিটিয়ে ও গুরুতর জখম করে নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট করে পালিয়ে যান সোহেল। ছয় দিন পর হাসপাতালে মারা যান হাসি। এ ঘটনার সাড়ে তিন মাস পর রবিবার রাতে কুমিল্লা থেকে ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সোহেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বিদ্যাকুট গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে সোহেল।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, গত ১ মে সকালে হাসির বাসায় জোর করে ঢুকে তার কাছে টাকা দাবি করে সোহেল। টাকা দিতে অস্বীকার করলে হাসিকে এলোপাতাড়িভাবে চড়-থাপ্পড়, কিল ও ঘুষি মারতে থাকে। এতে চোখে এবং মাথার এক পাশে মারাত্মক আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। সোহেল হাসির চুল ধরে ফ্লোরের টাইলসের সঙ্গে মাথায় আঘাত করতে থাকে এবং খাটের নিচে থাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। একপর্যায়ে হাসির মৃত্যু হয়েছে ভেবে সোহেল আলমারির ড্রয়ার থেক তিন ভরি সোনা ও নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে বাড়ির মালিক হাসিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৭ মে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় হাসির মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন। আসামি এবং তার পরিবার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-৪ মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে সোহেলকে কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পার্কের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের এ কর্মকর্তা।
