স্পোর্টস রিপোর্টার
অ্যাশেজ ড্র হওয়ার ভেতর দিয়ে শেষ হলো ইংলিশ গ্রীষ্মের। আর এই গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড়ো নায়ক নিশ্চয়ই বেন স্টোকস।
লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতানোয় অবিশ্বাস্য ভূমিকা রেখেছেন। হয়েছেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ নায়ক। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে ব্যাট হাতে আরো অবিশ্বাস্য কীর্তি করেছেন। একা হাতে ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন এক উইকেটের এক জয়। নিঃসন্দেহে এই মৌসুমে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড়ো ক্রিকেট তারকা স্টোকস; কিন্তু মৌসুম শেষে স্টোকস নিজে বলছেন, এইসব বীরত্বের বদলে অ্যাশেজ জয়ের সুযোগ থাকলে তিনি অ্যাশেজই বেছে নিতেন।
মৌসুম শেষে পেছন ফিরে দেখতে গিয়ে স্টোকস অবশ্য অসন্তুষ্ট হতে পারছেন না। এই মৌসুমের শেষ দিকে এসে বিশ্বকাপ জয় এবং অ্যাশেজ ড্র করা; সবমিলিয়ে তার মতে খারাপ নয়, ‘এটা অসাধারণ মৌসুম ছিল। এই গ্রীষ্ম শুরুর আগেই আমরা জানতাম যে, আমাদের সামনে বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজ আছে। আমরা এখন সেই মৌসুম শেষ করেছি। আমরা বিশ্বকাপজয়ী এবং অ্যাশেজ ড্র করতে পেরেছি। অবশ্যই এটা জিতলেই ভালো লাগত; কিন্তু এটাই সত্যি যে, আমরা কিছু হারিনি।’
গত বছর আগস্টেই মাঠের বাইরের কিছু ঘটনায় সংশয়ে পড়ে গিয়েছিল এই স্টোকসের ক্যারিয়ার। আদালত, নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে এসে এই জাতীয় নায়ক হয়ে ওঠাটা সহজ ব্যাপার নয়।
স্টোকস বলছিলেন, তিনি নিজে নায়ক হওয়ার কোনো চেষ্টায় ছিলেন না। তিনি কেবল দলের জয়ে যত বেশি সম্ভব অবদান রেখে যেতে চেয়েছেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, দলের হয়ে যত বেশি সম্ভব অবদান রাখা যায় সেই চেষ্টা করতে এবং ইংল্যান্ডকে এই গ্রীষ্মে যত বেশি ম্যাচ জেতানো যায়। আমি এখনো এইসব সাফল্য হজম করে উঠতে পারিনি। তবে একদিন নিশ্চয়ই সন্তুষ্টি নিয়ে এই সাফল্যের দিকে ফিরে তাকাব এবং তখন দেখব যে, আমরা একটা ওয়ানডে দল ও টেস্ট দল হিসেবে কী কী অর্জন করতে পেরেছি।’
স্টোকস বলছিলেন, এই সাফল্য তাদের খুব সহজে আসেনি। মৌসুম জুড়ে অনেক কষ্ট করার পরই এই সাফল্য এসেছে। তারপরও মৌসুম শেষে অ্যাশেজটা জিততে পারলেই বেশি তৃপ্ত থাকতেন তিনি। বলছিলেন, সে জন্য যদি হেডিংলির ঐ বীরত্ব বিসর্জন দিতে হতো, তাতেও রাজি স্টোকস, ‘এই মৌসুমে আমরা অবিশ্বাস্য কিছু উচ্চতায় উঠতে পেরেছি। তবে আমি একটা অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের জন্য আমরা হেডিংলি নাটকীয়তা বিসর্জন দিতেও রাজি ছিলাম।’
