সুগন্ধার ভাঙনে ফেরির গ্যাংওয়ে নদীতে

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২১

যানবাহন চলাচল বন্ধ

নলছিটি (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীর আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ষাইটপাকিয়া ফেরির গ্যাংওয়ে। সোমবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এ রুটের সব যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিকট শব্দে ষাইটপাকিয়া ফেরির গ্যাংওয়ে ভেঙে পড়ে নদীতে।

ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার জানান, গত দুই বছর ধরে সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বিলিন হচ্ছে তার ইউনিয়নের ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট, বহরমপুর ও কাঠিপাড়া গ্রাম।  এ বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও  নদীভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট এলাকার চা-দোকানি ইউসুফ আলী হাওলাদার জানান, সকালে দোকান খোলার পর হঠাত্ একটি শব্দ হয়। পলকের মধ্যে সব নদীতে চলে যায়। দোকানের কোনো মালামাল রক্ষা করা যায়নি।

ফেরিঘাট এলাকার অপর এক মুদি ব্যবসায়ী কাছেম হোসেন জানান, গত দুই বছর ধরেই অল্প অল্প করে ভাঙছিল নদীর পাশ। সোমবার হঠাত্ সব শেষে হয়ে গেলো।

ষাইটপাকিয়া ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা স্বপন দাস ও  জলিল শরীফ জানান, ফেরির গ্যাংওয়ে, ট্রলারঘাটে আমাদের অফিস কক্ষটি নদীতে বিলিন হয়ে যায়। পরে উপজেলার সাথে যোগাযোগ সচল রাখতে দ্রুত পূর্বের ঘাটের পাশেই বহরমপুর গ্রামে একটি বিকল্প জায়গায় ঘাট স্থাপন করা হয়।

এ ব্যাপারে ষাইটপাকিয়া ফেরি বিভাগের সুপারভাইজার মো. মোশারফ হোসেন জানান, আকস্মিক ভাঙনে ফেরির গ্যাংওয়ে ভেঙে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য নলছিটি-ষাইটপাকিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বরিশাল, ঝালকাঠিসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের সাথে নলছিটি উপজেলার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। জেলা ফেরি বিভাগের মাধ্যমে ক্রেন খবর দিয়েছি। নতুন করে গ্যাংওয়ে স্থাপনের পর ফেরি চালু হবে।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদার জানান, সুগন্ধা নদীর আকস্মিক ভাঙনে ষাইটপাকিয়ার কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফেরির গ্যাংওয়ে বিলিন হওয়ায় পর এ রুটে দ্রুত যোগযোগ ব্যবস্থা চালু করতে কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি সড়ক ও জনপদের ফেরি বিভাগে জানানো হয়েছে। দ্রুত ক্রেন পাঠিয়ে নতুন গ্যাংওয়ে তৈরির কাজ শুরু করা হচ্ছে।