শিশু গৃহকর্মী সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন জরুরি

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩২

মতবিনিময় সভায় বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

শিশু গৃহশ্রমিকরা গড়ে প্রতিদিন ১৭ ঘণ্টা কাজ করে, যা যে কোনো আইনেই নিষিদ্ধ। তাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি বা ওভারটাইম নেই। আবার নিজ পরিবার থেকেও এরা বিচ্ছিন্ন। সেই সাথে তারা যৌন নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকে সবচাইতে বেশি। তাই গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রমকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। একই সাথে এই শিশুদের সুরক্ষা করতে একটি আইন জরুরি বলে জানান তারা।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘শিশু গৃহকর্মীদের অধিকার সুনিশ্চিতকরণ: সমস্যা এবং সম্ভাবনা’ বিষয়ক জাতীয় মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস ও গ্লোবাল মার্চ এগেইনস্ট চাইল্ড লেবারের সহায়তায় ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’ (বিএসএএফ) এই জাতীয় মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুস সহিদ মাহমুদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সরকার শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি কাজের তালিকা তৈরি করলেও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুরা বেশি অনিরাপদ। কেননা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণখাতে শিশুদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হলেও গৃহকর্মে চার দেওয়ালের ভিতরে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হলে কারও পক্ষেই তা জানা সম্ভব হয় না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. মুজিবুল হক বলেন, সুবিধাবঞ্চিত গৃহশিশু কর্মীদের অধিকার নিয়ে আমরা এখন নিয়মিত আলোচনা সভা করছি, এটাকে এক প্রকার অগ্রগতি মনে করতে হবে। কেননা গৃহশিশু কর্মীদের অধিকার নিয়ে নিকট অতীতে তেমন কোনো সচেতনতাই ছিল না। এদের অধিকার সুরক্ষার জন্য সকলের মধ্যেই মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদুল কবির বলেন, সরকার গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন না করলেও নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন কিন্তু তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি গৃহশিশু শ্রমকে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে মত দিলেও এর পরের পরিকল্পনা কী হবে সেটা নিয়ে ভাবতে বলেন।

শাপলা নীড় বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমোকো উচিয়ামা বলেন, শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষার জন্য গৃহীত নীতিমালার বাস্তবায়ন না করলে তাদের অবস্থার খুব একটা উন্নতি হবে না।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রেজাউল হক বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিকাশ ঘটার কারণে শিশুশ্রম আগের থেকে অনেকখানি কমেছে। আগে আমাদের চারপাশে যতটা শিশুকে কাজ করতে দেখা যেত তা এখন আর দেখা যায় না। সেই সাথে প্রাতিষ্ঠানিক কলকারখানায় শিশুশ্রম নির্মূলে সরকার অধিক গুরুত্ব প্রদান করায় দেশে শিশুশ্রম আগের তুলনায় এখন অনেক কম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের চাইল্ড রাইটস গভরনেন্স এন্ড চাইল্ড প্রটেকশন ডিরেক্টর আব্দুল্লা আল মামুন। তিনি তার প্রবন্ধে বলেন, সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলের জন্য কাজ করলেও গৃহ শিশু কর্মীদের বিষয়টি সেখানে উপেক্ষিত থাকছে। এই জন্য গৃহ শিশু কর্মীদের আইনগত স্বীকৃতি খুবই দরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক। তিনি বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতন রোধের জন্য প্রথমে দরকার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। আর এই জন্য প্রয়োজন ব্যাপক আকারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।