৫০০ শয্যা বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে রোগীদের সেবা প্রদানে সমস্যা
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ, কিন্তু হাসপাতালের অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়েনি। অতিরিক্ত চাপে রোগীদের ফ্লোরে রেখে চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায় ও ফ্লোরে চিকিত্সাধীন রোগীর দীর্ঘ সারি প্রায়ই দেখা যায়। এই রোগীদের ফাঁকফোকর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে চিকিত্সক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের। এতে চিকিত্সাধীন রোগীদের সেবা প্রদানে সমস্যা হচ্ছে। ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ আরো বেড়েছে। ১৩১৩ শয্যার এই হাসপাতালে ৩ হাজারের বেশি রোগী চিকিত্সাধীন থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবকাঠামো ও জনবলের সংকটে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের শয্যা ৫০০ বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পড়ে রয়েছে। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। নানা দুরবস্থার মধ্যেও রোগীরা চিকিত্সা নিতে খোলা জায়গায় শুয়ে আছে। অবকাঠামোর সুবিধা না থাকায় জটিল রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিতে নানা সমস্যা হচ্ছে।
হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের তিনটি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা ৬২টি। আর রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে ২৫০ জন। মেডিসিনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৪ শয্যার বিপরীতে চিকিত্সাধীন রোগী ২৩৮ জন। আর মেডিসিনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এই ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন আছে ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী। মেডিসিন ওয়ার্ডের ভেতরে জায়গার সংকুলন না হওয়ায় বারান্দায় স্থান পেয়েছে রোগীরা। এক ওয়ার্ডের সঙ্গে আরেক ওয়ার্ডের রোগী মিশে গেছে।
এ ব্যাপারে মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. অনুপম বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শুধু ডেঙ্গু রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে আমাদের ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। ফ্লোরে ও বারান্দায় রেখে চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। সিটের বাইরের রোগীদের খাবার সরবরাহ দেওয়া হলেও ওষুধ বরাদ্দে সমস্যা হচ্ছে। টয়লেট, সুইপার ও ওয়ার্ডবয়ের সংকটে সেবা পরিচালনায় বেশি সমস্যা হচ্ছে। একই চিত্র কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে। ওয়ার্ডে ৬৩ সিটের বিপরীতে চিকিত্সাধীন রোগী হচ্ছে ২৩৭ জন। এ ব্যাপারে কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. প্রবীর কুমার দাশ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। তবে চিকিত্সকসহ জনবলের প্রচুর স্বল্পতা রয়েছে। শুধু তিন জন চিকিত্সকের সৃষ্ট পদ রয়েছে। আমরা আরো ১২টি চিকিত্সকের পদ সৃজনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ৩১ শয্যার সিসিইউ রয়েছে। রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেশি।’
গাইনি ওয়ার্ডে ৬৭ সিটের বিপরীতে চিকিত্সাধীন আছে ২২৬ জন। অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন আছে ৩৩১ জন। এই ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। রোগীদের দীর্ঘদিন ধরে চিকিত্সাধীন থাকতে হয়। প্রতিদিন নতুন করে রোগী যুক্ত হচ্ছে। অধিকাংশ রোগীর অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। এতে ওটিতে সিরিয়াল পেতে অনেক দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। সার্জারির ২৮ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৫ সিটের বিপরীতে চিকিত্সাধীন আছে ২৩৮ জন। চট্টগ্রামে সরকারিভাবে দ্বিতীয় কোনো বৃহত্ হাসপাতাল নেই। ফলে চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা ও আশপাশের অন্য জেলা থেকে জটিল রোগীরা উন্নত চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ছুটে আসছে। রোগীর চাপ বাড়লেও পাশাপাশি হাসপাতালের পরিধিসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়েনি। ৫০০ শয্যা বাড়ানোর জন্য একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ জন্য হাসপাতালের সামনে জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
