আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে, প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ যদি তদন্ত করে প্রমাণ হয়, তাহলে ভিসিও ছাড় পাবেন না। অভিযোগ উঠেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে উপাচার্যের মদতে। তিনি ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদেরও এক কোটি টাকা দিয়েছেন। এ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগরে আন্দোলনের মধ্যে উপাচার্য ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে শোভন ও রাব্বানীকে ছাত্রলীগের পদছাড়া করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। অধ্যাপক ফারজানা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতা উপাচার্যের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এই পরিস্থিতিতে উপাচার্য ফারজানাকেও অপসারণের দাবি তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দুর্নীতি ও অপকর্ম প্রতিরোধে প্রয়োজনে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগে একটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল। ইতিহাসে যা ঘটেনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছে রিপোর্ট নেয়ার জন্য, কোথাও কোনো অপকর্ম হলে যথাযথ তথ্য দিতে। ভবিষ্যতে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে।’ তিনি বলেন, যারা অপকর্ম করে, অনিয়ম করে, এ ধরনের নেতাকর্মীদের দলের ভেতরে না থাকাই মনে করি যথার্থ। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। তিনি বলেন, দলের কেউ যখন ‘অপকর্ম’ করে, তখন তা সরকারের উন্নয়ন অর্জন ‘ম্লান করে দেয়’। একটি ‘খারাপ আচরণের’ কারণে ১০টি ভালো কাজ ম্লান হয়ে যায়।
